
মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরসীতা গ্রামের গোলামের হুতের বাড়ীতে গত ১৫ জুলাই এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- পান ব্যাবসায়ী মোঃ মাকসুদ (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম (৪৫) এবং পুত্র মোঃ জাহিদ হোসেন (২১)। এ ব্যাপারে গত ১৭ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চল রামগতি আদালতে ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বাদী হইয়া ৬ জনের নাম উল্লেখ করিয়া মামলা করে। এতে আসামি করা হয় একই বাড়ীর মাহফুজ (৪৫), রাজু (২৩), নাজিম (২০), নাজমা (৪০), মো মন্নান (৩৫) ও ভানু বেগম (৩০) কে।
মামলার অভিযোগ ও স্হানীয় সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে মোঃ মাকসুদের সঙ্গে তার আপন দুই ভাইয়ের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ১৫ জুলাই বিকেল ৪ টার দিকে মোঃ মাকসুদের মালিকানার জমিতে তার আপন ভাই মাহফুজ দলবলসহ জোরপূর্বক নারিকেল পাড়তে গেলে মোঃ মাকসুদ বাধা দেয়। এতে বাগবিতণ্ডা শুরুর একপর্যায়ে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে আসামীদের দা, ছেনি, লোহার রড ও লাঠিসোটার আঘাতে মোঃ মাকসুদ, স্ত্রী আমেনা ও ছেলে জাহিদ আহত হন। আহতদের মধ্যে আমেনা বেগমের হাতের হাড়ে মারাত্মক জখম হওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অন্যরা স্হানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। মামলায় আরও অভিযোগ আনা হয়, আসামি মাহফুজ গংরা মোঃ মাকসুদের ঘরের ভিতর ঢুকিয়া দরজা, জানালা, আরা-বেড়া, আলমারি, শোকেজ, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও ওয়ারড্রপ ভাংচুর করে। এছাড়া নগদ দুই লক্ষ টাকাসহ প্রায় পৌনে পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্নালংকার ও একটি ভিভো ওয়াই-২১ মোবাইল ফোনসেট জোরপূর্বক ছিনাইয়া নেয়।
মোঃ মাকসুদ ও মাহফুজের মেঝো ভাই জাকির হোসেন বলেন, আমার বড় ভাইয়ের পৈত্রিক সম্পত্তি ও ক্রয় করা সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারতেছে না। সমাজের কিছু খারাপ লোকের পরামর্শে আমার ছোট দুইভাই মাহফুজ ও মন্নান বড় ভাইয়ের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে বাধা দেয়ায় আমার ভাবীর হাত ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমি জোর দাবী জানাই, যাতে করে আমাদের চার ভাইয়ের জমিগুলো যেন দলিলপত্র দেখিয়া আইনানুগ সমানভাবে বন্টন করিয়া দেয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ‘অভিযুক্ত’ মাহফুজের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তাঁর পুত্র নাজিম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার পিতা এখন মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে আছে, তিনি আরও বলেন প্রতিপক্ষের অভিযোগ মিথ্যা, আমরা আমাদের জমির নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পেরেছি। এ জমি আমাদের নামে নাম জারি করা আছে। দরজা- জানালা ভাংচুর করা ও স্বর্ণলংকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে তিনি এ প্রতিবেদককে সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা যাচাই করার জন্য বলেন।
চর বাদাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সমাজসেবক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, মাকসুদ ও মাহফুজদের ভিতরে জমির বিরোধ নিয়ে এলাকায় ও থানায়সহ মোট ৭ বার বৈঠক হয়েছে। প্রতিবার বৈঠক হওয়ার পরে নানান কূট কৌশলে মাহফুজ ও মন্নানরা সালিশ না মেনে নিজেদের মনমতো জমিজমা ভোগ করতে চায়।
এ ব্যাপারে স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট মুঠোফোন বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, জমিজমা নিয়ে তাদের বিরোধের বিষয়টি নিয়ে আমি মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এরা আমার সালিসি মানে না। কোন পক্ষ আপনার সালিশ মানে না জানতে চাইলে চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাকাওয়াত হোসেন জমিম বলেন, তাদের ভাইদের মধ্যে মাহফুজের ভিতরে ভেজাল আছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামগতি থানার উপ পরিদর্শক মোঃ শাহ আবদুল্লা আল মারুফের নিকট এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এ মামলায় মোট ছয় জন আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। এর মধ্যে এক নম্বর আসামি এখন পর্যন্ত কারাগারে আছে ও অন্য দুজন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এমসি আসার পরে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।