
গাজী মমিন:
ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের প্রথম বর্ষ পূর্তিতে এআন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শিক্ষার্থীদের শহীদি মর্যাদা দিয়ে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন প্রশাসনের অনান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্মীপুরে নিহত শিক্ষার্থীদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে, তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই আন্দোলনে লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ১৭ জন শহীদ হয়েছে। শহীদ পরিবারের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাদের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করা হবে।
পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহীদদের কবরের পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। শহীদরা যে চেতনা নিয়ে এই আত্মত্যাগ করেছেন, জনগণকে সাথে নিয়ে তাঁদের চেতনা বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, গেল বছরের ৪আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের এক দফা দাবিতে জেলা শহরের ঝুমুর স্টেশন এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্র-জনতা সড়ক অবরোধ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন।
এই সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুললে, হামলাকারীরা শহরের তমিজ মার্কেট এলাকায় গডফাদার খ্যাত সাবেক মেয়র এম এ তাহেরের বাড়িতে অবস্থান নেয় এবং তাঁর পুত্র যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে ছাত্র-জতার ওপর চালায় নির্মম গুলিবর্ষণ।

এ ঘটনায় আরও তিন শিক্ষার্থী, কাউছার হোসেন বিজয়, ওসমান পাটোয়ারী ও সাব্বির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। আহত হন দুই শতাধিক আন্দোলনকারী। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ১৭জন শহীদ হয়।