
গাজী মমিন: প্রবাসীকে নিয়ে পরিবারে ১২ সদস্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস খালে পড়ে একই পরিবারটির ৭ সদস্য মারা যায়। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার ও এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাজার এলাকায় লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খালে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিন বছর পর ওমান থেকে দেশে আসেন প্রবাসী বাহার উদ্দিন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে বাহারকে আনার জন্য মাইক্রোবাসযোগে পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে যান।
বেঁচে ফেরা প্রবাসী বাহার উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানায়, ঘুম চোখে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিল চালক রাসেল। বার বার বলা পরও গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নেননি তিনি। এর আগে কুমিল্লায় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে আসি। কিন্তু বাড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার আগে ঘুমন্ত চালক গাড়িটি সড়কের পাশে খালে ফেলে দেয়। ধীরে ধীরে ডুবছিল গাড়ি। তখন চালককে গাড়ির লক খুলতে বললেও খুলে দেয়নি। তবে সে নিজে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যায়। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেনি সে।
একপর্যায়ে গাড়ি থেকে প্রবাসী বাহার, তার বাবা আব্দুর রহিম, শ্বশুর ইস্কান্দার মীর্জা, ভাবি সুইটি ও শ্যালক রিয়াজ বের হয়ে আসে। তবে বাঁচতে পারেনি বাহারের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা কবিতা (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানী ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া আক্তার (৮) ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। নিহতরা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাঁশারি বাড়ির বাসিন্দা। তবে আহত ৫জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে বেলা ১০টার দিকে নিহত ৭জনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে তৈরি হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস। তবে একসাথে এতো সজন হারিয়ে বেঁচে যাওয়ারাও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একই চিত্র এলাকাবাসীসহ আত্নীয়-স্বজনদের। বিকেলে একই সাথে পরিবারের ৬সদস্যকে পারিবারিক কবরস্থানে ও বাহারের নানাী ফয়েজুন নেছাকে হাজিরপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি খালে পড়ে যায়। কয়েকজন বের হতে পারলেও সাতজন ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো বাড়িত নিয়ে গেছে স্বজনরা। এছাড়া মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।