লক্ষ্মীপুরে মাদক বিক্রিতে বাঁধা স্বামী-স্ত্রীকে মারধর ও বসত ঘরে হামলা

স্টাফ রিপোর্টার : মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় লক্ষ্মীপুরে শাকিল-মিতু নামের এক দম্পতিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ মে) সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। শুধু
মারধর নয় শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয় বসতঘর।

ভুক্তভোগীরা হলেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার লামচরী এলাকার মমিম সর্দার বাড়ির শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী মিতু আক্তার।
অভিযুক্তরা একই বাড়ির মৃত খোকা মিয়ার ছেলে আরাফাত হোসেন, আবদুল মালেকের ছেলে জহির হোসেন, আশরাফুল ইসলাম তসলিমের ছেলে মো. তাহা ও আবুল কাশেমের ছেলে জব্বার হোসেন। অভিযুক্তদের মধ্যে তাহা ব্যতিত অন্য সকলে একাধিকবার মাদক মামলায় কারাবরণ করেছেন।

শাকিলের স্বজনরা জানায়, শাকিলের বসতঘরের সামনে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন জহিররা। একাধিকবার নিষেধ করলেও শাকিলদের কথা শুনেনি তারা। তাই বাধ্য হয়ে এবং ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
গত ১৩ মে শাকিল পুনরায় জহিরদের মাদক বিক্রি ও সেবনে বাঁধা দেয়। এতে শাকিলকে অভিযুক্তরা মারধর করে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মিতু আক্তারকেও মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এছাড়া ঘরবাড়ি লুটপাট ও ভাঙচুরের হুমকি দেয় তারা।
পরবর্তীতে ১৪ মে রাতে তালা ভেঙে শাকিলদের বসতঘর লুটপাট ও ভাঙচুর করে ৪ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। ঘটনাটি জহির ও আরাফাতরা ঘটিয়েছেন।

শাকিলের স্ত্রী মিতু আক্তার বলেন, মাদক ব্যবসায়ী জহির ও আরাফাতদের অত্যাচারে বাড়ি ছাড়া হয়েছি। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসলেও ভয়ে রাতে থাকা হয়না। ঘরের দরজায় মাদক বিক্রি ও সেবন করে তারা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মদক ব্যবসা করায় বাড়ির অন্য কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করেনা।
আরও বলেন, ঘটনার সময় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তারা। এছাড়া রাতের অন্ধকারে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণের চেইন, কানের দুলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। ভাঙচুর করে দরজা, জানালা ও ঘরে থাকা অন্যান্য আসবাবপত্র। এঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জহির ও আরাফাতরা মাদক ব্যবসা করে। তারা শাকিলদের বাড়ি মাদক ব্যবসা ও সেবনের আখড়ায় পরিনত করেছে। মাদক মামলায় কয়েকবার কারাবরণ করেছে তারা। তবুও মাদক বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না তাদের। জহিরদের কারনে বাড়ি ও এলাকার ছাত্র-যুবকরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের কাছে জহিরদের শাস্তি দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, লামচরীর ঘটনাটি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

Leave a Reply