
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জে মিয়ার বেড়ি এলাকায় নিজ ভাইদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙ্গে দখলের চেষ্টা করে প্রবাসী মমিন উল্যা ও তার লোকজন। এসময় দুটি দোকান ঘর থেকে নগদ টাকা সহ তিন লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় বাধা দেয়ায় মমিন উল্যাহদের হামলায় হেদায়েত উল্যাহসহ পরিবারের ৪জন আহত হয়েছে। সোমবার (১৯ জুন) সকাল ৭টার দিকে মিয়ারবেড়ী দক্ষিণ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে মমিন উল্যাদের বহন করা দামা, দা ও হাতুড়ি জব্দ করেছে বাজার পরিচালনা কমিটি। মমিন উল্যাহর নেতৃত্বে স্থানীয় সুমন তার বোন সুমি, হেলাল তার বোন কহিনুর ও ফারুক হামলার সাথে জড়িত ছিল। তারা অনেক ভাড়াটে সন্ত্রাস বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
হামলা শিকার আহতরা হলেন, হেদায়েত উল্যা, হাবিব উল্যা, শহীদ উল্যা ও শারীরিক প্রতিবন্ধি ইব্রাহীম। মমিন উল্যাহ নিজে এবং তার ভাড়াটে লোকজন দিয়ে তাদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তবে মমিন উল্যাদের কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। এছাড়া হামলার ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছে বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন।
বাজার পরিচালনা কমিটি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি লিজ নিয়ে মিয়ারবেড়ী বাজারে পূর্ব পাশে দোকান ঘর নির্মান করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে হাজী মোহাম্মদ রুহুল আমিনের ছেলে হেদায়েত, হাবিব ও মমিন। হঠাৎ মমিন তাদের ভাইদের মালিকানা না দিয়ে একাই ভোগ করতে চায়। এবং ঘটনার দিন সকালে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে বিরোধকৃত দোকানগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে বাধা দিলে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার উদ্যেশে আনা দামা, দা ও হাতুড়ি মমিনের নিকট জব্দ করেছে বাজার পরিচালনা কমিটি।
বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, দুই পক্ষকে সাথে নিয়ে সমাধাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন। এর কিছুক্ষণ পরই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে তারা। ধারালো অস্ত্রগুলো জব্দ করে আমার অফিসে রাখা হয়েছে। তাদেরকে ছাড়াতে গিয়ে আমিও আহত হয়েছি।
ক্ষতিগ্রস্ত হেদায়েত উল্যা জানান, একসময় এ ঘরগুলো আমার বাবার ছিল। বাবার মৃত্যুর পর দোকান গুলো আমাদের ৫ ভাইয়ের। কিন্তু মমিন উল্যা একা ভোগ করতে চায়। সে প্রবাস থাকে। সেখান এসেই ঝামেলা তৈরি করে এবং আজকের এ ঘটনা ঘটায়। টাকা দিয়ে লোকজনে আনে এবং আমাদের উপর হামলা চাালায়। তার প্রচুর টাকা আছে সে টাকা দিয়ে নাকি আইনও কিনতে পারে।
অভিযুক্ত মমিন উল্যাহ বলেন, তার ভাইরা জোরপূর্বক তার দোকান ঘর দখল করে বসে আছে। এনিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এরপর ও আমার ভাইরা আমার দোকান ঘরগুলো ছাড়ে না। আজ সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকান ঘরে তালা দিলে বাজার কমিটি এসে তালা খুলে দেয়, সমাধানের কথা বলে। এরপর কিছুক্ষণ পর আমার ভাইরা এসে আমার ওপর হামলা করে। এতে আমার স্ত্রী ও আহত হয়।
তবে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি ও সদর থানার এ এসআই শেখ ফরিদ। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে বাজার পরিচালনা কিমিটি সহ স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন তারা।