
গাজী মমিন, লক্ষ্মীপুর: অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশনকে অগ্রাধিকার দিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ১১৫ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯২৬ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুন) দুপুরে (জনতার ঘর হলরুমে) পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া এ বাজেট ঘোষণা করেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপন্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এড. নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন।
বাজেট অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক সাংসদ ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্যা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূর-এ-আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ, লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হোসাইন আহম্মদ হেলাল, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন।
বাজেট বিবরণীতে জানানো হয়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ১১৫ কোটি ৮ লাখ ৮৩ লাখ ৯২৬ টাকার মোট বাজেট ধরা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৩ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব খাতে ও উন্নয়ন খাতে ৭০ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং প্রারম্ভিক স্থিতি ৮৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৬ টাকা। পক্ষান্তরে বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৭২ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টাকা ও উদ্ধৃত্ত বাজেট ধরা হয়েছে ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৬২৬ টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এড. নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘‘বাজেট ছোট না বড় তা বড় কথা নয়। এর সঠিক বাস্তবায়নই হলো বড় কথা। দুর্নীতিমুক্ত পৌরপরিষদই জনগণের প্রত্যাশা। এসময় তিনি মেয়রের দৃষ্টি আর্কষণ করে আরো বলেন, পৌরবাসী চায় সম্মানের সাথে মেয়রের কাছে তাদের মনের কথা বলতে, তারা যাতে এই অধিকার পায়। এতেই বাজেটের স¦ার্থকতা।”
বাজেটে প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, এ বাজেট যুগোপযোগী তবে জনগন এর যথাযথ বাস্তবায়ন দেখতে চায়। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশনে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও পৌরবাসী মাদক, কিশোরগ্যাং, ভূমি দখলদার ও যানজট থেকে মুক্তি চায়। লক্ষ্মীপুর প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও এখানে নাগরিক সুবিধা ও সেবা অপ্রতুল।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র বলেন, জমি না থাকায় পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। পৌরভবন, ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসনের জন্য প্রায় ৫ একর ভূমির প্রয়োজন। এ বিষয়ে উদ্যোগ প্রহণ করা হয়েছে। এসময় সকল উন্নয়ন কাজে সরকার, প্রশাসন, সুশীলসমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।