
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে মানববন্ধন করা হয়েছে। হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউসূফ হারুন ভূঁইয়া, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার হারুন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় হামদর্দ থেকে অবসরপ্রাপ্ত ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অভিযোগ এনে তার শাস্তি দাবি করা হয়। একই সাথে ইকবালকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তার নিজ গ্রামের বাসিন্দারা।
বুধবার (২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রওশন জাহান ইষ্টার্ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আয়েশা (রাঃ) মহিলা কামিল মাদরাসা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামে অবস্থিত এইচ.এ. জনকল্যাণ আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক আবু সায়েদ সৈয়দ কোম্পানী, আবুল কাশেম মাস্টার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) দত্তপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহজাহান, আয়েশা (রাঃ) মহিলা কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ উল্লাহ, শিক্ষক কাজী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা আবদুস সালাম, মাহমুদা বেগম, ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ পাটওয়ারী, এইচ.এ. জনকল্যাণ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রেজওয়ানুল হক, শিক্ষক মোহাম্মদ মাকসুদ-এ-এলাহী, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, ভবানন্দ রায় ও রাকিবুল হাসান প্রমুখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, সম্প্রতি চাকরি হারিয়ে হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির আবদুর রবের ছেলে ইকবাল মাহমুদ। ষড়যন্ত্রের অংশহিসেবে তিনি ভুল তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় একটি ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতিত্বমূলক সংবাদ পরিবেশন করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়- ‘নোয়াখালীর এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচ.এ. জনকল্যাণ আলিম মাদরাসায় জঙ্গী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়’, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য।
ওই মাদরাসা সংলগ্ন নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, এই মাদরাসায় পড়ালেখা শেষ করে আমার ছেলে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এরকম একাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা এইচ.এ. জনকল্যাণ আলিম মাদরাসা থেকে পড়ালেখা করেছে।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চল আন্ডারচরে এইচ.এ. জনকল্যাণ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন হামদর্দ এর এমডি ড. হাকীম মো. ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া। এরপরই শিক্ষার আলো পায় ওই অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা। এরপর ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি।
একইভাবে হামদর্দ এমডি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়। চাকরি হারিয়ে প্রতিহিংসামূলকভাবে এ ষড়যন্ত্র করায় ইকবাল মাহমুদকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। এছাড়াও ইকবালকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন উত্তর জয়পুরবাসী।