
ভাস্কর মজুমদার (নিজস্ব প্রতিনিধি); হাজার একর ফসলি জমিতে প্রতি বছর হাজার হাজার মন ধান আবাদ করে কৃষকরা। চাহিদা পুরন করে বিক্রি করে তাদের অন্যান্য অভাব মেটাতো এবং বছর শেষে তাঁদের মুখে থাকতো সদায় হাসি। তাদের আশা-ভরসা একমাত্র সম্বল ফসলের মাঠ এখন মাটি খেকোদের দখলে। অসহায় কৃষক নির্বাক চোখে তাকিয়ে দু’ফোটা জল পেলানো ছাড়া কিছুই করার নেই। এবং মাটি খেকোদের কবলে পড়ে দেশের স্বনামধন্য ইর্রি প্রজেক্ট বিলুপ্তির পথে। পাশাপাশি গ্রামীন সড়ক ধ্বংসের সম্মুখীন, ঝুঁকিতে চলাচল ভোগীরা। জনমনে প্রশ্ন এ যেনো গভীর স্তব্ধতার শৃংখলে আটকা পড়ে রয়েছে কর্তৃপক্ষ, নিরবতা তাদের একমাত্র সম্বল সরকারি, বেসরকারী, সামাজিক, সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ হচ্ছে না কেন?
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাংগাখাঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চিত্র এমনই। বিশেষ করে গৌরীনগর ও হোগলডহরী এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটা ভরাটের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে, হাইড্রলিক গাড়ী দিয়ে সরবরাহের কারণে রাস্তা ঘাট ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পাকা রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জানাযায়, ওইসব এলাকায় স্বপন, কাইয়ুম, ছাত্রলীগের রুবেল, মাটি জাহাঙ্গীর, ফরহাদ, জাহিদ, ইউসুফ চৌধুরী, শাকিলসহ নামে বেনামে, অনেকে এই মাটি কাটা ও সরবরাহের সাথে জড়িত। তারা ক্ষমতার দাপটে কাউকে তোয়াক্কা না করে এসব মাটি কাটার কাজ চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে কিছু সংখ্যাক মুখোশধারী লোকের নিয়ন্ত্রণে তারা ফসলি জমি বিনষ্ট করে মাটি কাটার কাজ চালিয়ে আসছে। এবং অভিনব কৌশল অবলম্বন করে জমির মালিকদের সাথে আলাপ না করে তাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর সুকৌশলে এক টুকরো জমির মাটি ক্রয় করার সুযোগে এমন পর্যায় মাটি কাটে, যাতে পাশের জমির মাটি ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় নিয়ে নিতে পারে। এবং দাম নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি করে ওইস্থানে সুবিধা ভোগ করতে থাকে এইসব মাটি খেকোরা।
বাংগাখাঁ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শফিক উল্যা বলেন, এখন নতুন নতুন আওয়ামীলীগের জন্য আমরা কথা বলতে পারছিনা। তারা এই সব মাটি কাটার কাজ করে এবং এলাকার যে ক্ষতি হয় সে দিকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। এখন ইর্রি ধানের সময় কৃষক গোদের কারনে ধান রোপণ করতে পারছেনা, এবং হতাশায় পড়ে রয়েছে। কিছু বললে নানা রকম হুমকি ধমকী দেয়। ভয়ে কিছু বলছেনা কেহ। নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে অনেকে বলেন, মাছির ডগি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়, পরে মালিক পক্ষ খবর পেলে তাদেরকে গোপনে সল্পটাকা দেবে বলে বাধ্য করার চেষ্টা করে। মাটি ব্যবসায়ী রুবেল জানায়, আমি মাটির ব্যবসা করি তবে যেসব জমিতে আবাদ হয়না ওই জমিনের মালিকেরা আসলে সঠিক মুল্য দিয়ে মাটি নিয়ে যাই, কিন্তু ওই ডগিতে ১৫-২০ জন ব্যবসায়ী মাটির ব্যবসায় জড়িত রয়েছে এবার আমি তাদের তুলনায় কমই কাটি, কারণ মানুষের দুর্ভোগের চিন্তা করি। স্বপন বলেন, বর্গা চাষীদের অনুরোধে আমি নিজের জমির মাটি বিক্রি করে সমতল করে ফসলের উপযোগী করার চেষ্টা করছি। হাইড্রলিক পিকাপের চালকরা জানায়, আমরা গাড়ী চালিয়ে সংসার চালাই। কার মাটি কে কাটে তা জানিনা, টিরিপ হিসেবে বেতন দেয় এটুকুই।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে বলেন, মাটি কেটে ফসলি জমি বিনষ্টের বিষয় জানি, কিন্তু আমার উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।