লক্ষ্মীপুরে অনুমতি ছাড়াই চলছে রমরমা মেলা। স্থানীদের প্রতিবাদ, প্রশাসন নিরব!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনের কোন প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই সপ্তাহ ব্যাপী রমরমা মেলার আয়োজন করেছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। জেলার রায়পুর উপজেলায় দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়নের কালু ব্যাপারীর হাটে বিশাল মাঠজুড়ে এর আয়োজন করা হয়েছে। অনুমোদন না নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। মাদক, জুয়া, অশ্লীলতা ও এলাকায় চুরি চিনতাইয়ের আশঙ্কায় গত দশ বছর থেকে এটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। একটি অসাধু চক্রের তৎপরতায় আবারও এ আয়োজন করায় ধর্মপ্রণ মুসলমানদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া যে কোন মুহুর্তে আইনশৃংখলা অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই দিনের মাহফিলকে পুঁজি করে সপ্তাহজুড়ে চলে জমজমাট এই মেলা। ৬জানুয়ারী বৃহস্প্রতিবার থেকেই শুরু হয়েছে এর কার্যক্রম, শেষ হবে ১২জানুয়ারী। বৃস্তিত মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে টোকানপাট ৫শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে সংখ্যায়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় মনির হোসেন মোল্লা, জাকির মোল্লা, ওসমান গণি বেপারী, আমিনুল হক বেপারী ও ইউপি সদস্য আবুল হোসেন এবং দিদার মোল্লাসহ একটি সিন্ডিকেট স্টল বিক্রি করছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন বলেন, ছোট একটি স্টল থেকে ৩-৬ হাজার টাকা ভাড়া নেয়া হয় তাহলে বড় বড় স্টল থেকে কত টাকা ভাড়া নিতে পারে মেলার আয়োজক কমিটি। মেলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় দু’টি গ্রুপ। এ নিয়ে এলাকার সর্বত্রই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়বইছে।

এলাকার শান্তিশৃংখলা ও জনস্বার্থে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিগত সময়ের ন্যায় এবারও মেলা বন্ধের দাবিতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিডি এন এস আই বরাবর সুধিজনদের স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, প্রতি বছর ২ দিন ব্যাপি হযরত ক্বারী আলী হাযের আল কাদরী শাজলীর ইছালে সওয়াবের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ মাহফিলকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মেলার আয়োজন করে থাকে। উক্ত মেলাকে কেন্দ্র করে বিগত বছরগুলোতে মদ, জুয়ার আসর, অসামাজিক কার্যক্রম, ছেলে মেয়ে অবাধ মেলামেশা, মারামারি, ঝগড়াঝাটিসহ এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে। দাঙ্গা হাঙ্গামার কারনে গত ১০ বছর এ মেলা বন্ধ রয়েছে। মাহফিল চলুক, তবে মেলা যেন কোন প্রকার বসতে না পারে এ জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের দাবি, এখানে মেলা হলে মদ, জুয়া, অসামাজিক কার্যক্রম, ছেলে মেয়ে অবাধ মেলামেশা ও দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লটারির নামে জুয়া খেলার কারণে এলাকায় চুরি, চিনতাই বৃদ্ধি পাবে। এতে করে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের প্রতিদিনের কার্যক্রম ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটবে। এ মেলাতে মধ্যরাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে গান বাজনার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনবে। মেলার আশে পাশের এলাকার হাজারো অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে শংঙ্কায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বারবার ফোন করা হলেও ধরেননি মেলা মিটির কথিত সভাপতি মনির মোল্লা। তবে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, এ মেলা আয়োজনে আমার কোন মতামত বা অনুমতি নেই। যেহেতু মাহফিলকে কেন্দ্র করে মেলা বসছে, সেহেতু মেলার জন্য প্রশাসনের কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই।

মেলার অনুমতির বিষয়ে জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসাইন আকন্দের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়ার পরও রিসিভ করা হয়নি।

পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন এবং পুলিশ প্রেরণ করে অবৈধ মেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

Leave a Reply