কমলনগরে ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ভাস্কর মজুমদার (নিজস্ব প্রতিবেদক); লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে গত ৪ ডিসেম্বর শনিবার থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ ডিসেম্বর সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে উপকূলের কৃষি ও ধানক্ষেতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, হেলে পড়েছে ধান গাছসহ নানানরকম শীতের সবজি।

অতীতে বাংলাদেশে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, ফনিতে সমুদ্র উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরসহ খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ভোলা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীর তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সেই সাথে পশু, পাখিসহ গবাদি পশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিও হয়েছে। এখন নুতন ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে আবার উপকূলবাসীর আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। ঝড়টি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না করায় মানুষের মৃত্যু না হলেও এর প্রভাব টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ধান, আলু ও টমেটোসহ নানানরকম ফসলের  মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে জানা গেছে।

এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ মাঠ ভরা সোনালী ধানের স্বপ্ন দেখেছিলো। উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ বছর প্রায় তিনশত পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠভরা সোনালী ধান দেখে কৃষকের হাসি ফুটেছিলো। আর ১০/১২ দিনের মধ্যে কৃষকরা এ ফসল ঘরে তুলতে পারতো। কিন্তু প্রকৃতির কাছে হেরে যেতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল আমিন মাস্টার ও পাটারিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম নুরুল আমিন রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে জানান, রোববার রাত থেকে পাকা আমন ধান হেলে পড়ায় এলাকার কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কৃ্ষক কাদের ও জামাল বলেন, মাঠে এখন রোপণ করা পাকা আমন ধান। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় ধান গাছগুলো হেলে পড়েছে। এতে হেলে পড়া ধানগাছ অর্ধেক বিনষ্ট হবে। এতে ধানে শষ্য আসবে না চিটা হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা মোঃ ইকতারুল ইসলাম ৬ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, এই মুহুর্তে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা না দেখে সঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে বৃষ্টিপাত কমার পরে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দ্বারা আমনের মাঠগুলোতে সরেজমিনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্হ কৃষকদের বীজের প্রণোদনা সহায়তা রয়েছে।

Leave a Reply