
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: হঠাৎ আম্মুর চিৎকার শুনে দেখি আব্বু চুরি দিয়ে পেটের মধ্যে মোঁছড়াচ্ছে! আমি চিৎকার দিলে আব্বু আমাকে দৌড়ানি দেয়, তখন আমি পালিয়ে যাই। আব্বুও বের হয়ে যায়। একটু পরে বাসায় এসে মোবাইল নিয়ে কয়েকটি নম্বরে ফোন করি। এক সময় রিসিভ করলে নানাকে ঘটনা জানাই। শনিবার (২০ নভেম্বর) উপস্থিত সাংবাদিকদের এভাবেই ছোখের সামনে গর্ভধারিনী মা’কে হত্যার ঘটনার বিবরণ দিলেন আট বছরের শিশু সন্তান মো. রিফাত হোসেন।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোররাতে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গৌবি›দ্ধপুর এলাকার গার্মেন্টস গলির হাবিব মিয়ার ভাড়া বাসায় আব্দুল জাহের (৩৬) তার স্ত্রী রুপা আক্তার (২৮) কে চুরিকাঘাতে হত্যা করে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের আট বছরের ছেলে রিফাত। অভিযুক্ত জাহের লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের উ: চরমার্টিন গ্রামের হাছনার বাপের বাড়ির মৃত. হোসেন আহম্মদের ছেলে এবং নিহত রুপা একই এলাকার হাফেজ আহমদের মেয়ে। তাদের রিহান নামের চার বছরের আরও একটি ছেলে রয়েছে। সে নানা নানীর সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকে।
নিহত রুপার মা আহাজারি করে বলেন, আমরা গরীব তাই ওদের সাথে আত্মীয়তা করতে চাইনি, কিন্তু স্বাধিন কেরানী আমার স্বামীকে ফুসলিয়ে তার সালা জাহেরের কাছে রুপাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। তাদের অনেক অত্যাচার নির্যাতন সৈর্য করেছে সে। ১৯ সালে তাকে ডির্ভোস দিলে আমরা আদালতের কাছে যাই। তখন জাহের লক্ষ্মীপুর জেলা লিগ্যালএইডের মধ্যস্থতায় পূনরায় বিয়ে করে। গত বছর জাহের, স্বাধীন কেরানি, নজির, রহমান ও নাছিমা ষড়যন্ত্র করে ভালো রাখার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যায় তাকে। ওরা আমার মেয়েকে খুন করেছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।
নিহত রুপার চাচা জানান, জাহেরের বড়ো ভাই রহমান আমাদের বাড়িতে এসে ভিবিন্ন হুমকি ধামকি দিয়েছে। আরেক ভাই নজির বলেছে, এজনের লাশতো পাইছেন কিন্তু আরেক জন কই! আমরা মনেকরি তারাও এই ঘটনায় জড়িত। ইতিমধ্যে গা’ঢাকা দিয়েছে জাহেরের ভগ্নিপতি স্বাধীন কেরানি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাপ দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুপার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরার জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।