
মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় নৌকা মার্কা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মাস্টার। ১ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার দালাল বাজারস্হ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক বিশেষ বর্ধিত সভায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। এসময় গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য সরকারী সেবা সহজলব্য করার লক্ষ্যে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দালাল বাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মাষ্টারকে দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পেশ করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ বাকের।
এ প্রস্তাবে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আবু বকর, সহ সভাপতি আব্দুল গোফরান পাটোয়ারি, সহ সভাপতি বাবুল হোসেন, সহ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সহ সাধারন সম্পাদক ও ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফিরোজ আলম হিরন, দপ্তর সম্পাদক আবু সিদ্দিক, কৃষি সম্পাদক আবুল কাসেম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালেয়া বেগম, ১/১ নং ওয়ার্ড আহবায়ক ও ইউপি সদস্য নুরনবী এবং সদস্য সচিব সফিক আহমেদ, ১/২ নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি লুতফর রহমান লুতু এবং সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারন সম্পাদক সাকায়েত উল্লাহ, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি নুর মোহাম্মাদ কাজী এবং সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি নিজাম কন্ট্রাক্টর এবং সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আবু, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি আলমগির হোসেন এবং সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ মিলন, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়নসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মোট ৫৪ জন নেতৃবৃন্দ বর্ধিত সভায় উপস্হিত থেকে লিখিত স্বাক্ষরের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মাস্টারকে দালাল বাজার ইউনিয়নে নৌকা মার্কার মনোনয়ন দেয়ার জন্য একমত পোষন করেন।

দালালবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মাষ্টার তাঁর বক্তব্যে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট ঘাতকের হামলা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিয়ে আমি এলাকার সাধারন মানুষের সেবামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছি। আমার বিশ্বাস যেমনটি তৃনমূল আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ভোটারা আমাকে ভালবাসেন ঠিক তেমনটি মনোনয়ন বোর্ড আমাকে নৌকা প্রতীক দিবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আপনাদের চাহিদার প্রতি সম্মান জানিয়ে দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে নৌকা মার্কার মনোনয়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাবো। আবেগপ্রবণ কন্ঠে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, ২৮ বছর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, দলের জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি, জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আমার বসতঘরে আগুন দেয়া হয়েছিলো, আমার পুত্র শিপনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে বেদম প্রহার করে বস্ত্রহীন করা হয়েছিলো, দিনের পর দিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি মিথ্যা মামলায়, শেষপর্যন্ত আদরের নাতিকে হারালাম শুধু আওয়ামী রাজনীতি করার অপরাধে। পদ-পদবীকে কখনো ক্ষমতা মনে করি নাই, আমার কোন বদনাম নাই।
অনুষ্টান শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।