
ভাস্কর মজুমদার (কমলনগর প্রতিনিধি): বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দিয়ে রামগতি- কমলনগর উপকূলের মেঘনা নদী ভাঙ্গন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবীতে শুক্রবার রাজধানীতে মানববন্ধন করেন লক্ষ্মীপুর জেলার সকল শ্রেনী পেশার সাধারন মানুষ। ২৭ আগস্ট সকাল দশটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সানমে এসে ভয়াল মেঘনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্হ রামগতি ও কমলনগর উপজেলার হাজারো জনগন স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়ে নদী ভাঙ্গন রোধে তীররক্ষা বাঁধ নির্মানে একনেকে অনুমোদন হওয়া তিন হাজার নব্বই কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারের পরিবর্তে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে করানোর দাবী করা হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিন্কু, রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি ডক্টর আসরাফ আলী চৌধুরী (সারু), কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা এডভোকেট এ কে এম শরীফ উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুজ্জাহের সাজু, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল মতলব, চর লরেন্স ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এইচ এম আহসান উল্যা হিরন, চরগাজী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোহিদুল ইসলাম সুমন, কমলনগর উপজেলা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা কেন্দ্রের

সভাপতি ভাস্কর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ সেন, সহ সভাপতি গোপাল দাস, সহ সাধারণ সম্পাদক সুকদেব পোদ্দার, রামগতির বাসিন্দা ও ঢাকার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোঃ রাশেদ আলম, রামগতির বাসিন্দা ও ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন দোলন, কমলনগর উপজেলার চরকাদীরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ডালিম কুমার দাস, রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিলাদ হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম, কমলনগর উপজেলা কৃষকলীগ সহ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সবুজ, আওয়ামীলীগ নেতা তোফায়েল কম্পাানী, যুবলীগ নেতা পলাশ দাসসহ লক্ষ্মীপুর জেলার সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, টেকসই বাঁধ নির্মাণে সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই। রামগতির আলেকজান্ডারে ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী দিয়ে নির্মিত নদী তীররক্ষা বাঁধ টেকসই হয়ে সেটি এখন পর্যটন কেন্দ্র, অথচ একই সময়ে ঠিকাদার দিয়ে করা কমলনগরে তীররক্ষা বাঁধে অন্তত ১৫ বার ধস নামার কারনে এ বাঁধ এখন বিধ্বস্ত। একনেকে পাস হওয়া ৩০৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি সেনাবাহিনী দিয়ে বাস্তবায়ন করার যথাযথ প্রাসঙ্গিক যুক্তি বক্তারা তুলে ধরেন।
মেঘনা নদীর ভাঙন এখন আরও ভয়াবহ। বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। নদী গর্ভে চলে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাট-বাজার ফসলি জমি রাস্ত-ঘাট ও সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা। সব হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার এখন নিঃস্ব। শেষ সম্বল বাঁচাতে ঠেকসই বাঁধ নির্মাণের আকুতি এখন এ উপকূলের সকল মানুষের।
রাক্ষুসে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা রক্ষায় সম্প্রতি একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এতে ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য তিন হাজার ৯০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া একনেকে বৈঠকে। প্রকল্পে টেকসই কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঠিকাদারের পরিবর্তে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে করার দাবী দুই উপজেলার ৬ লাখ মানুষ। জরুরী ভিত্তিতে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ শুরু করা ও কাজের গুনগতমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়েরন জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি ও সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। একই দাবিতে বিগত দিনে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, লক্ষ্মীপুর, কমলনগর ও রামগতিতে অসংখ্যবার মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।