চাঁদা না দেওয়ায় বাঁশের বেড়ায় অবরুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর আত্রাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কুশাতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায়।
জানা যায়, উপজেলার তারানগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানের ছেলে শিক্ষক তুহিন রহমান ২০১১ সনে কুশাতলা বাজার সংলগ্ন স্থানে বাড়ী করে বসবাস করে আসছেন। বাড়ীর সাথে ধান ভাঙ্গানো মিল করায় মুল রাস্তা হতে মৃত লায়েব সরদারের ধানি জমির আইল দিয়ে যেতে হয়। মিলে ধান ভাঙ্গাতে যেতে অসুবিধা হওয়ায় জমির মালিক লায়েব সরদারের ওই জমির ভোগ দখলে থাকা দুই ছেলে আহসান ও আজমলের সম্মতিতে আইলের দুই ধারে কিছুটা জায়গা ছাড়ার অনুমতি দিলে তুহিন মাস্টার নিজ খরচে মাটি কেটে রাস্তা তৈরী করে সেখানে ইট সোলিং করে নেন।
চলতি বছরের কয়েক মাস পূর্বে পার্শ্বের আরেকটি জমি তুহিন মাস্টার ক্রয় করলে আলহাজ, আবুবক্কর, আশরাফুল এবং শামীম এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। চাঁদার হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং জীবন বাঁচাতে আত্রাই থানায় মামলা করেন তুহিন মাস্টার। মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ আলহাজ কে আটক করে জেল হাজতে পাঠান। হঠাৎ গত ২০ আগষ্ট শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০ টায় আবুবক্কর, আশরাফুল ও ফুরকানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান এর ছেলে শিক্ষক তুহিন রহমানের বাড়ী হতে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তায় বাঁশ ও কাঁটা দিয়ে বেড়া দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
জায়গার ভোগ দখলে থাকা আহসান জানান, আমরা দুই ভাই ওই জমি ভোগ দখলে আছি। তুহিন মাস্টার আমাদের সম্মতিতে গত ২০১১ সনে রাস্তা তৈরী করে চলাচল করে আসছে। রাস্তার ব্যাপারে আমাদের দুই ভাইয়ের কোনরুপ আপত্তি নাই। গত শুক্রবার শুনতে পাই বোন ও ভাইয়ের ছেলেরা মিলে আমাদের দুই ভাইয়ের সাথে কথা না বলে তুহিন মাস্টারের বাড়ীর রাস্তায় বেড়া দেয়।
বেড়া দানকারী আবুবক্কর ও ফুরকানের সাথে গণমাধ্যমকর্মী দেখা করতে বাড়ীতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। কথা বলার জন্য আবুবক্কর ০১৭৯৪-২১১৯৫৬ এবং ফুরকান ০১৭৬২-৫১৯১০৬ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আত্রাই থানা ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি শুনতে পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি।

Leave a Reply