অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় সাজানো  ধর্ষণ মামলায় যুবক জেলে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় মিথ্যা ও সাজানো ধর্ষণের মামলায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৭ নং বামনী ইউনিয়নের সাগরদী এলাকার নিরীহ দিনমজুর সুজন (২৫) দির্ঘ প্রায় তিন মাস যাবৎ কারাবরণ করছেন।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ গত ০৫/০৯/১৯ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল,লক্ষ্মীপুর। রেশমা বেগম (২৬) নামে একজন নারীকে রাত ১২ ঘটিকার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু ঘটনার বাস্তবতা হচ্ছে জাফর নামের অন্য একটি ছেলের সাথে রেশমা বেগমের দির্ঘ দিন যাবৎ অবৈধ সম্পর্ক করে আসছিল। যাহা রাত ৩ ঘটিকার সময় জাফরকে রেশমা বেগমের ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় অত্র ওয়ার্ডের চকিদার এলাকাবাসী ও নিরীহ দিনমজুর সুজনসহ তাদেরকে হাতে নাতে ধরে। এর পর ছেলেটিকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়।
উক্ত ঘঠনার প্রতিবাদ করায় একটি কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে দিনমজুর সুজনের নামে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে এই সব তথ্য ওঠে আসে।
এ বিষয়ে মামলার ২নং স্বাক্ষী মোবারক হোসেন বলেন, এটা একটা বানোয়াট মিথ্যা মামলা। রেশমা বেগমকে জাফর নামের একটা ছেলের সাথে রাত ৩ টা দিকে এলাকার লোকজন হাতে নাতে ধরে। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন ওই ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে পিঠায়। এই কারনে সুজনকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
মামলার ৪ নং স্বাক্ষী আবু তাহের বলেন, এটা একটি সাজানো মিথ্যা মামলা তাকে ফাঁসানোর জন্য এই মামলা দেওয়া হয়েছে।
৭নং বামনী ৯নং ওয়ার্ডের চকিদার লিটন হোসেন বলেন, এটা সাজানো মিথ্যা মামলা। মামলার বাদী রেশমা বেগমকে জাফর নামের একটা ছেলের সাথে রাত ৩টা সময় আমি এবং সুজন ও এলাকাবাসী সহ তাঁর ঘরে হাতে নাতে ধরি। তাঁর ঘরে ওই সময় কোন পুরুষ লোক ছিল না। পরবর্তীতে আমরা ওই ছেলেকে (জাফরকে) পুলিশের হাতে তুলে দেই। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সুজনকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ঐ দিনের ঘঠনার প্রমান আমার কাছে আছে।
লুৎফর রহমান নামের এক ব্যাক্তির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এটা একটি পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা সুজনকে ফাঁসানোর জন্য এই মামলা দেওয়া হয়েছে।
আবুল কাশেম বলেন, এটা একটা মিথ্যা সাজানো মামলা। ওই মহিলার সাথে জাফর নামের একটা ছেলের সাথে অনৈতিক কাজে এলাকাবাসী হাতে নাতে ধরে। এর জের ধরে সুজনকে মিথ্যা মামলায় দিয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী রেশমা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্বভ হয়নি।
এ বিষয়ে জেলে থাকা সুজনের পিতা আব্দুল মতিন বলেন, রেশমা বেগমের সাথে জাফর নামের একটা ছেলের সাথে অনৈতিক কাজে এলাকাবাসী রাত ৩ ঘটিকার দিকে হাতে নাতে ধরে। এই অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে মিথ্যা ও সাজানো ধর্ষণের মামলা দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এই বিষয়ে এলাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন হবে।

Leave a Reply