
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে আপন দুই বোন ও ভাগিনার বিরুদ্ধে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মধ্য চর রমনি মোহনের মজুচৌধুরীরহাট কোস্টগার্ড ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই এলাকার মৃত. নুরুজ্জামানের ছেলে রাজমিস্ত্রী মহিন উদ্দিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দুই বোন মেহেরুন্নেসা ও রিনা আক্তার এবং ভাগিনা রকি ও বোন মেহেরুন্নেসার দেবর মো. শাহজানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
মহিন বলেন, জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘ বছর যাবত বিরোধ চলে আসছে। ইত্যেপূর্বে এই জমি ভাগ করার কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার ভাইদের হামলা ও মারধরের শিকার হই। লাঞ্চিত হই বহুবার। তবুও পারিনি বাবার ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি উদ্ধার ও ভোগদখলে নিতে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিসী বৈঠক হলেও তাদের খামখেয়ালী ও একঘোয়ামীর কারনে কোন সমাধান করতে পারেনি এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তিরা।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ আমার দুই বোন, বোনের দেবর ও ছেলে আমাদের বাড়িতে বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার স্ত্রী রুমানা আক্তারকে গালমন্দ করতে থাকেন। এতে আমি প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দা, রড ও লাটিসোটা নিয়ে আমার উপর আক্রমন করে। এসময় তাদের হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত জখম হই।
মহিমের স্ত্রী রুমানা আক্তার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামীকে প্রতিপক্ষের কবল থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তাদের মারধরের শিকার হই। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্বামীকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যাই। ওই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বসতঘর ভাঙচুর করে ঘরে প্রবেশ করে ধান বিক্রির ঘরে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বিধায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, এসময় বাড়িতে কোন লোকজন না থাকলেও কথা হয় মহিনের ছোট ভাই রুবেলের স্ত্রী তানিয়া আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমার ভাসুর (মহিন) তাদের ঘরের আঙিনায় থাকা একটি বেল গাছ কাটতে থাকেন। তখন আমার শাশুড়ি (মহিমের মা) বাঁধা দেন। বাঁধা দেওয়ার কারনে আমার ভাসুর মহিন বাঁধা না মেনে গাছটি কেটে ফেলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। ঘটনাটি আমার শাশুড়ি তাঁর দুই মেয়েকে জানালে তারা সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে ভাসুরের কাছে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চান। এনিয়ে উভয় পক্ষ তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়ে মারধরের শিকার হন। তবে, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল বলেন, ঘটনাটি নিয়ে মহিন অভিযোগ করেছে আমার কাছে। আমি তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। কারন পারিবারিক বিষয় ও ঘটনাটি জটিল।