প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মুহাম্মদ কাইসার হামিদঃ ঢাকায় “জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটি-২০২১” এর উদ্যোগে

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,ভাষা সৈনিক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জননেতা আলহাজ্ব মো. জিল্লুর রহমান এরঁ অষ্টমতম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২০মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটি ২০২১ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সফল মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ এমপি।

প্রয়াত জিল্লুর রহমান মৃত‍্যবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এম এ করিম এর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং প্রয়াত জিল্লুর রহমান মৃত‍্যুবার্ষিকী পালন কমিটি-২০২১ এর সদস্য সচিব লায়ন মশিউর আহমেদ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এনামুল হক শামীম এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট নূরুল আলম রুহুল এমপি, বিএমএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা এডিশনাল ডিআইজি (অবঃ) আব্দুল কাহার আকন্দ ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

আজ ২০ মার্চ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মো. জিল্লুর রহমান এরঁ অষ্টমতম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি রাজনৈতিক জীবনে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভৈরব – কুলিয়ারচরবাসীর হৃদয়ে গৌরবউজ্জ্বল এক তারকা হয়ে থাকবেন। নিজ এলাকায় তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি। তাঁর মৃত্যুর সময় ভৈরব – কুলিয়ারচরবাসী অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিলেন। হয়তো তিনি বেচেঁ থাকলে তাঁর জন্মভূমি ভৈরব- কুলিয়ারচরকে আরো উন্নত করতেন। সেদিন তাঁর এ মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না ভৈরব- কুলিয়ারচরবাসী। আজ সেই ২০ মার্চ। আজকের এ দিনটি নানা আয়োজনে শোক আর শ্রদ্ধাভরে পালন করছে ঢাকাসহ ভৈরব- কুলিয়ারচরবাসী।

প্রায়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ৮০ বছর বয়সেও দাপটের সাথে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন তিনি। তাঁর জীবনের বেশীর ভাগ সময় রাজনীতিতেই ব্যায় করেছেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মো. জিল্লুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার বন্দরনগরী ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর গ্রামে ১৯২৯ সালের মার্চ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মেহের আলী ছিলেন একজন আইনজীবী। বাবার কর্মক্ষেত্র ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয়ী বিদ্যানিকেতন থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে ভৈরব কে.বি পাইলট স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি একাধারে ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৯৬ সালের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং সংসদ উপনেতাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।স্বাধীনতার পর ভৈরব-কুলিয়ারচর থেকে পরপর ৬ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনে জন্মস্থান ভৈরব- কুলিয়ারচরে রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি। ভৈরবে রয়েছে তার নিজের গড়া আইভি ভবনটি। ঐ ভবনটি এখন স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির ভিতরেও রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি। তিনি যে স্মৃতি রেখে গেছেন তা আজও ভুলার মত নয়। ভৈরব-কুলিয়ারবাসী তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়ে আজও অভিভাবকহীন হয়ে আছে। যে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার মত নয় ভৈরব-কুলিয়ারবাসীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার কয়েক মাস পর ১৩ জুলাই ভৈরবের মাটিতে পা রেখে ভৈরবের মানুষের সাথে তিনি সুর মিলিয়ে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও ভৈরবকে জেলা ঘোষণা করার ইচ্ছা পোষণ করেন। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৮ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে একটি প্রজ্ঞাপনে ভৈরবকে প্রস্তাবিত জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জিল্লুর রহমান তাঁর দায়িত্ব পালন অবস্থায় ২০১৩ সালে ১০মার্চ অসুস্থ হয়ে পরলে মূমুর্ষ অবস্থায় সিংগাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মার্চ বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে ঢাকা সহ ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে ।

উল্লেখ্য, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মো. জিল্লুর রহমান এরঁ সহধর্মিণী মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী বেগম আইভি রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দলীয় জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তাদের একমাত্র পুত্র আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৬ ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সভাপতি।

Leave a Reply