কুয়েতে মানব পাচার, মানি লন্ডারিংসহ ৫ অভিযোগ থেকে খালাস পাপুলঃ তারপরও আজ হতে পারে তফসিল ঘোষণা!

আব্দুল মালেক নিরবঃ কুয়েতের আদালতে সম্প্রতি বাংলাদেশী সাংসদ শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় হয়েছে। উক্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলোর মাঝে কুয়েতে মানব পাচার, মানি লন্ডারিংসহ ৫টি গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দিয়েছে কুয়েতের বিচারিক আদালত। এদিকে
বাংলাদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমপি পাপুলের মানব পাচার ও মানি লন্ডারিং এর অভিযোগে সাজা হয়েছে বলে একাধিক কাল্পনিক মিথ্যা সংবাদ প্রচারিত হলেও মামলার রায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মূলত সাজা হয়েছে ঘুষ প্রদানের অভিযোগে। মানব পাচার অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেয়া হয়, এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং-এর কোন অভিযোগই করা হয়নি।

এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ৫ টি অভিযোগ থেকেও খালাস পেয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে দেয়া আদালতের ৬১ পৃষ্ঠার রায় পর্যালোচনা করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে পাপুলের আইনজীবী আপীল দায়ের করেছেন। যার শুনানীর দিন ধার্য্য হয়েছে ৮ মার্চ।
এদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে
ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে পাপুলের সংসদীয় আসনটি শুণ্য ঘোষনা করেছেন।

যে সব অভিযোগগুলো থেকে পাপুলকে খালাস দেয়া হয়েছে সেগুলো হলোঃ- মানব পাচার, ভিক্টিমদের রেসিডেন্সি সিস্টেম লংঘন করা, প্রবাসীদের সাথে জালিয়াতি ও ধোকা, শ্রমিকদের চাকুরির বিষয়ে খোলাসা না করা ও প্রতারণা করা, শ্রমিকদের মারধর করা ও আটকে রাখা।
মানি লন্ডারিং- এর কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনাই হয়নি।
অন্যদিকে রায়ের ৮ নাম্বার পর্যবেক্ষনে বলা হয়েছে অধিকতর পর্যবেক্ষনের জন্যে উপযুক্ত আদলতে (উচ্চ আদালতে) রেফার করা হলো। অর্থাৎ এই রায়টি চুড়ান্ত নয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে রায়টি চুড়ান্ত নয়, সেই রায় আমলে নিয়ে সংসদ সচিবালয় সংসদীয় আসন শুণ্য করতে পারেন কিনা?
আইনে বলা হয়েছে ২৩৩ তম অধ্যায় ১৭৮(১)- নির্বাচনের পর কোন সদস্য সম্পর্কে যদি এমন বিরোধ দেখা যায় যে, ৬৬(২) অনুচ্ছেদের (নৈতিক স্খলন জনিত) দফায় বর্নীত অযোগ্যতা গুলি কোন একটির কারনে তিনি অযোগ্য বিবেচিত হইবেন কিনা অথবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাহার আসন শুণ্য হইবে কিনা, তাহা হইলে স্পীকার উক্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করিবে।

১৭৮(২) যদি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এই হয় যে উক্ত সদস্য অযোগ্য হইয়াছেন অথবা তাহার আসন শুণ্য করা উচিত, তাহা হইলে তিনি আর সদস্য থাকিবেন না।
সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হয়েছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট পাঠানো হবে এবং সে ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

শুধু তাই নয়, ৬৬(৫) অনুচ্ছেদে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে প্রচুর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ৬৬(৪) দফার বিধানাবলী যাতে পূর্ণ কার্যকারতা লাভ করতে পারে সে উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেমন প্রয়োজন মনে করবে, আইনের দ্বারা সেরূপ বিধান করতে পারবে।

সংসদ সচিবালয়ের কাছে বিকল্প অপশন থাকলেও তারা সেটি প্রয়োগ করেনি। রায় চুড়ান্ত না হলে অপরাধ বা সাজা গ্রহনযোগ্য নয়, কিন্তু সংসদ সচিবালয় আগ বাড়িয়ে পাপুলের আসন শুণ্য ঘোষনা করেছে।
এই বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ডক্টর জাফর আহমেদ খানের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ফোনে কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি।
পাপুলের সাজার চুড়ান্ত রায় না হলে এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া যাবে কিনা এই বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ গণমাধ্যমকে বলেন “যে কোন সাজাই চূড়ান্ত হয় আপিলের পরে। এইক্ষেত্রে সাজা এবং জরিমানা হয়েছে। যদি জরিমানা স্থগিত হয় আপিলে সেক্ষেত্রে কিন্তু অযোগ্য হবেন। শুধু জরিমানা স্থগিত হলে হবে না সাজাও স্থগিত হতে হবে। আর সাজা যদি স্থগিত হয় তাহলে তাকে আর সাজাপ্রাপ্ত বলা যাবে না। আপিলটা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ‍চূড়ান্তভাবে সাজা বলা যাবে না। ওই জায়গায় সাজাটা যদি স্থগিত হয়ে যায় তাহলে সংসদ পদের অযোগ্যতা আর বিবেচনা হবে না। সেক্ষেত্রে আপিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
অপরদিকে বাংলাদেশের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যের আসন ও শুণ্য ঘোষিত হয়নি, এমন নজির ও আছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জনতা টাওয়ার মামলায় দুই বছরের সাজা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ শুণ্য হয়নি, কারন রায়টি চুড়ান্ত ছিলোনা, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ছিলো।
পাপুলের শুণ্য আসনে তফশিল ঘোষণা হবে শীঘ্রই, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, আজ ৩ মার্চ কমিশনের বৈঠকে তফশিল ঘোষণার বিষয়টি চুড়ান্ত হবে।

Leave a Reply