
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সাইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ৮ জানুয়ারী সরকারি বন্ধের দিনে স্কুল খুলে সকল শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সরকারি উপ ভিত্তির তালিকায় নাম নিবন্ধন এর কথা বলে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ২৩০-২৫০ টাকা হারে আদায় করেন।
জরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদেরকে মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ)’র মাধ্যমে উপ ভিত্তির টাকা প্রদান করা হবে। সরকারি উপ ভিত্তি প্রদানের জন্য অভিভাবকের মোবাইল নাম্বারসহ তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে। এই তালিকা তৈরি করতে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। অভিভাবকদের সচল মোবাইল নাম্বার থাকার পরও তাদের কাছে জোরপূর্বক গ্রামীণফোনের সিমকার্ড বিক্রি করেন। প্রধান শিক্ষক গ্রামীণফোনের বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে চুক্তি করে ৯০ টাকা মূল্যের সিমকার্ড ২০০টাকা করে বিক্রি করেন। এতে ৯০ টাকা করে কোম্পানির প্রতিনিধি নেয় আর ১১০টাকা করে নেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। এর বাহিরেও তিনি অনলাইন করার কথা বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করেন।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে ও আমার ভাইয়ের ২ ছেলে এই স্কুলে পড়ে। আমার মোবাইল নাম্বার এক জাস্ট হয়না বলে আমার ভাইয়ের নাম্বারে আমার মেয়েসহ মোট ৫ জনের নাম নিবন্ধন করেছে। প্রধান শিক্ষক আমাদের প্রত্যকের কাছ থেকে ৩০টাকা করে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও একই অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আমি ৩০ টাকা করে নিয়েছি কাগজপত্র অনলাইন করার জন্য। তবে সিমকার্ড বিক্রি বাবদ ১১০ টাকা করে নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।
আর গ্রামীণফোনের ম্যানেজার গতকাল স্কুলে এসে সিম বিক্রির বিষয় টি বলেন এবং আজকে তারাই অভিভাবকদের কাছে ২০০ টাকা করে সিমকার্ড বিক্রি করেছে।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রিয়াজুল হায়দার (কিরণ) চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষকের অর্থ গ্রহণের বিষয় টি তিনি জানেন না। আজকে যে স্কুল খোলা এবং উপ ভিত্তির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবিষয়েও প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু জানাই নি। তবে কিছু অভিভাবক আমাকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছে।
এবিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার (চর বামনী ক্লাস্টারের পরিদর্শক) মজিবুর রহমানের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।