খুন-চুরি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোক্ত বিএনপি ক্যাডার তাজু এখন চদ্রগঞ্জ ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা!

সংবাদদাতাঃ এক সময়ের বিএনপির দূধর্ষ ক্যাডার ও চাঞ্চল্যকর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র রবিউল আউয়াল শিমুল হত্যা মামলার সার্জসীট ভুক্ত আসামী ও বর্তমান করা বদী চদ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রকাশ তাজু ভূঁইয়াকে নিয়ে দলের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি তাকে হত্যা মামলায় আইনশংখলা বাহিনী গ্রেপ্তার করলে তার মুক্তি ও ফাঁসির দাবীতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন একই দিন পৃথক পৃথক ভাবে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করলে জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। সাধারণ জনমনে প্রশ্ন জাগে কে এই তাজু ভূঁইয়া।
জনমনে প্রশ্নের উদ্রক হওয়া তাজু ভঁইয়ার পরিচয় খুঁজতে সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিক তাজু ভূঁইয়ার গ্রাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের আমানী লক্ষ্মীপুর গ্রামের সচতন জনগন ও তার সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক সথিত্ব এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানাযায়, আমানী লক্ষ্মীপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া বাড়িতে তাজু ভূঁইয়ারা স্বপরিবার বসবাস করলেও তারা এই গ্রামের বা ঐহিত্যবাহী এই বাড়ি বা পরিবারের কেউ নয়। তারই সত্যতা মিলে তার বাবা আব্দুল মন্নান ওরফে বাকা চৌধুরীর নামেই। স্থানীয়রা জানান, এই বাড়িতে নিয়মিত কামলা হিসেবে কাজ করার সুযোগে একটি দরিদ্র মেয়েকে বিয়ে করে আব্দুল মন্নান প্রকাশ বাকা চৌধুরী এই বাড়িতে ঘর জামাই হিসেবে বসবাস করে আসছে। বাকা দিন মজুরের কাজের পাশাপাশি চুরি চামারী ও গাঁজা সেবন এবং গাঁজা বিক্রির সাথে জড়িত ছিল ধীর্ঘদিন। এই গাঁজা সেবী ও গাঁজা বিক্রেতা চিচকে চোর বাকার বড় ছেলে তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু ভূঁইয়া। নিজেকে তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু ভূঁইয়া পরিচয় দিলেও স্থানীয়রা তাকে তাজ্জা চোরা হিসেবেই অভিহিত করে থাকে।


ছোট বেলা থেকেই এই তাজ্জা চোরা স্থানীয় বিএনপির ক্যাডারদের সাথে রাজনীতিতে জড়িয়ে বিএনপির ক্যাডার হিসেবে স্থানীয় ভাবে পরিচিতি অর্জন করেতে থাকে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজির পাশাপাশি চুরি চামারীতেও সে অপ্রতিদ্বন্ধী হয়ে উঠে। চোট খাট চুরি চামারী থেকে এক সময় সে বড় চুরিতেও জড়িয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী দলিয়াই বাজারের জনৈক ব্যবসায়ির টেম্পু চুরির সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরবর্তীত সে নিজ গ্রামের শাহ আলম মেম্বারের ছাগল চুরি করে ধরা পড়ার পর স্থানীয় আমানী লক্ষ্মীপুর বেগম হামিদা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসীর এক সালিশ বৈঠকে তার চুরি চামারী সহ যাবতীয় অপরাধ পর্যালোচনা করে তাকে গ্রাম ছাড়া করা হয়। স্থানীয়রা জানায় এর পর থেকে তাকে আর আমানী লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রকাশ্য দেখা যায়নি।
এ দিকে ২০১৪ ইং সালের দিকে এই চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় সরকার বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যক্রম মাথা ছাড়া দিয়ে উঠলে তাজু ভূঁইয়া প্রকাশ তাজ্জা চোরাও সেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বেপরোয়া হয়ে উঠে। বিগত ২০১৪ সালের ২১ শ এপ্রিল তাজ্জা চোরা সহ স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা দওপাড়া এলাকায় এক তান্ডবলীলা চালায়। এদিন রাতে আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে তারা দেওপাড়া কাজী বাড়িতে ছাত্রলীগ নেতা কাজী বাবলুকে হত্যার উদ্দেশ্য হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়িতে কাজী বাবলুকে না পেয়ে তার বসত বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। কাজী বাবলুকে বাড়িত না পেয়ে তার ভাগিনা প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র, জম্মের পরই মা বাবা হারা এতিম রবিউল আউয়াল শিমুলকে ধরে নিয়ে যায়। এ সন্ত্রাসীরা শিমুলকে বাড়ির পার্শ্বের রাস্তায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যায়। জানাযায়, জম্মের পরই মা হারা শিমুল নানা নানী ও মামাদের আদরেই নানার বাড়িতে থেকেই লালিত পালিত হয়ে আসছিলো। পড়া লেখা করছিল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে।


শিমুলের খুনিদের বিচারের দাবীতে তখন প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র- শিক্ষক ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহন করে। এই হত্যার বিচার চেয়ে রবিউল আউয়াল শিমুলের মামা ছাত্রলীগ নেতা কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামাদের আসামী করে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলাটি পরে পুলিশ বুর‌্যাু অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)তে তদন্তের জন্য প্রেরণ করে আদালত। পিবিআই অধিকতর তদন্ত শেষে পরিদর্শক আনোয়ারুল আলম গত ৪ মার্চ আদালতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৭ ক্যাডারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। উক্ত তালিকায় ৪ নাম্বার আসামী বর্তমান চদ্রগঞ্জ ইউনিয়নের আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রকাশ তাজু ভূঁইয়া। পরবর্তীতে সম্প্রতি আইন শৃংখলা বাহিনী তাজু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
স্থানীয় সূত্র জানাযায়, এক সময়ের বিএনপির ক্যাডার ও চুরি চামারীতে জড়িত থাকার দায়ে গ্রাম ছাড়া ধূর্ত তাজু নিজের আগের অবস্থান পরিবর্তন করে আওয়ামী সুবিধাবাদীদের হাত ধরে আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সে চলে বলে কৌশলে ইউনিয়ন আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদটি ভাগিয়ে নেয়।
তবে আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে পদ দখল করলেও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা বরাবরই তাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাকে তারা কখনোই মেনে নিতে পারেনি। তার ও তার অনুগতদের সাথে কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে দলের নিবেদিত নেতা কর্মীদের। সম্প্রতি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে সে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নুরুল আমীনের পক্ষে জোরালো ভুমিকা ও পরবর্তীতে হামলার শিকার হওয়ার একটি নাটক সাজিয়ে ত্যাগী আওয়ামী লীগ সাজার অপচেষ্টা চালায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চন্দ্রগঞ্জ এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা জানান, এক সময়ের বিএনপির দূধর্ষ ক্যাডার ও চোর যার হাতে আমাদের অনেক নেতা কর্মী নির্যাতিত হয়েছে। যার হাতে এতিম শিশু রবিউলর খুন হয়েছে তাকে আমরা আওয়ামী লীগ কি করে মেনে নিতে পারি? আমরা এই সন্ত্রাসী ও খুনির ফাঁসির দাবী করছি। স্থানীয়রা জানায়, তাজুর বাবা বাকা চৌধুরী এক সময় এলাকায় গাঁজা সেবন ও গাঁজা বিক্রি করলও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হয়ে তাজু এলাকায় এসে ইয়াবা বিক্রি করে যাচ্ছিল। একবার সে ইয়াবা সহ চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিল। তার বাড়ির পার্শ্বের এক ইয়াবা বিক্রেতার হত্যার সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সন্দেহ করেন তারা। শিমুল হত্যা মামলার ন্যায় এ ব্যাপারে র‍্যাবকে মামলাটিরও অধিকতর তদন্তেরও দাবী জানান তারা।
এ ব্যাপার জানত চাইল চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আনসারী জানান, তিনি দীর্ঘ দিন প্রবাস জীবন যাপন করায় তাজু ভূঁইয়া সম্পর্ক তার পূর্ব ধারণা ছিলনা। তথাপিও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগর সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল সহ অনেক নেতাদের অনুরোধে তাকে চন্দ্রগঞ্জ ইউপি আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি করা হয়। পরবর্তীতে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর আমি বার বার তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার প্রস্তাব করি। কিন্তু অন্যরা আমার সাথ একাত্বতা পোষণ না করায় আমি করতে পারিনি। শিমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও আমি উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু বহিষ্কার করতে পারছিনা। তার পক্ষে মানব বন্ধনেও আমি অংশ নিনাই। এত কিছুর পরও দলের একজন হিসেবে তাজুকে আমি মেনে নিতে আমারও কষ্ট হচ্ছে।

Leave a Reply