লক্ষ্মীপুরের দালালবাজারে ৭৫টি অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ, জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মিজানুর শামীমঃ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্হানীয় সড়ক বিভাগাধীন কুমিল্লা- লালমাই- চাঁদপুর- লক্ষ্মীপুর- বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০৪তম কিলোমিটার হতে ১১০তম কিলোমিটার অংশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর রোববার সকাল এগারোটায় টায় সদর উপজেলায় দালাল বাজার এলাকায় এর উদ্বোধন করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ আকতার হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক জসিমউদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদ্মাসন সিংহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামসেদ রানা, সড়ক বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান। এছাড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আঃ মোন্নাফ, উপ পরিদর্শক সালাউদ্দিন শামীমসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় এ সময় ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা, ৯টি অবৈধ সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত মোট জমি ১.৬৫ একর, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১০ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা।
জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, এটি বর্তমান সরকারের চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেলায় অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে সকল সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে। এবং সমগ্র জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।
লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা আন্তরিক দুংখিত। আমরা খুব দ্রুত সময়ের ভিতরে মসজিদটি পুন সংস্কার করে দিবো। এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুজিবুর রহমান মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে তৎক্ষণাৎ একটি লিখিত বিবৃতি দেন। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদ করা সরকারি সম্পত্তি আর কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না। অচিরেই এ রাস্তাটি ফোর লেন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অন্যদিকে উচ্ছেদ করে দেয়া ব্যবসায়ীদের একজন ঔষধ ব্যবসায়ী মিন্টু এ প্রতিবেদককে জানান, টাকা ধারদেনা করে তীল তীল করে গড়ে উঠা আমাদের রুটি-রুজির একমাত্র সম্বল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চোখের সামনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধুলোয় মিশেয়ে দেয়া হয়েছে। আমি ওপেন হার্ট সার্জারী করা একজন মানুষ। আমার মনের বর্তমান অবস্থা ডিসি-এসপিরা বুঝবে কি? তীল তীল করে গড়ে উঠা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে ধুলোয় মিশেয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা অনেক ব্যবসায়ীর পক্ষে মেনে নেয়া অসম্ভব। ব্যবসায়ী মিন্টু আরও বলেন, বিকল্প ব্যবস্হা না করে হঠাৎ করে এসে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা হউক।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় প্রতক্ষদর্শী কয়েকজন জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ দখলকৃত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করাকালীন সময় রোববার দুপুরে দালাল বাজারের চৌরঙ্গীতে একটি পুরাতন টিন শেড ভবনে অবস্থিত জরাজীর্ণ মসজিদেের দেয়ালে উচ্ছেদকৃত স্হাপনার আঘাত লাগলে মসজিদের সাইড ওয়াল ক্ষতিগ্রাস্হ হয়। ঘটনায় মসজিদটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় মুসুল্লিসহ স্হানীয় কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে নানানরকম স্লোগান দিতে থাকে। এসময় বাজারের ব্যাবসায়ী ও দৈনিক জনতার স্টাফ রিপোটার ভাস্কর বসু রায় চৌধুরী সংবাদ সংগ্রহ করতে থাকলে কিছু উশৃংখল লোক তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে লাঞ্ছিত করে। ঘটনার সময় উপস্থিত ঔষুধ ব্যাবসায়ী কামরুল ও বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর মহিউদ্দিন মিরন সংবাদকর্মী ভাস্কর বসু রায় চৌধুরীকে উশৃংখল ব্যক্তিদের কবল থেকে উদ্ধার করে। পুরো ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরের সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দাবী জানান যে, উচ্ছেদকৃত সরকারি সম্পত্তিতে দ্রুতভাবে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিলে সরকারি কোষাগারে বিপুল পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় হবে। যা দিয়ে লক্ষ্মীপুরের অনুন্নত অন্যান্য কাজে সে অর্থ ব্যয় করা যাবে। এতে সরকারি সম্পত্তি আর অবৈধভাবে কেহ দখল করতে পারবে না এবং এধরণের উচ্ছেদ অভিযান চালানোরও দরকার হবে না।

Leave a Reply