
মিজানুর শামীম: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবী করেন বাদী। মামলার বাদী কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত মারফত উল্লাহ এর পুত্র মো: মোস্তফা সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যম কর্মিদের বলেন। গত ১০ জুলাই একই এলাকার মনির ব্যাপারীর পুত্রদ্বয় মো: হামজা (২২) ও মো: আলী (২৫), একই এলাকার মো: ইসরাফিলের পুত্র মো: মারুফ (১৯), শফি উল্ল্যাহের পুত্র আব্দুর রশিদ (৩০), মো: হারনের পুত্র মো: শাকিব (২২), শাফি উল্ল্যা এর পুত্র মো: বেলাল (২৫), পার্শ্ববর্তী চর পাগলা গ্রামের এছাহাকের পুত্র মো: আশিক (২২) ও নজুল হকের পুত্র মো: রাজু (২৫) সহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা করার পর থেকে মামলার বিবাদীরা মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য অনবরত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মামলা উঠানোর জন্য। ইউনিয়ন কৃষকলীগ নেতা মামলার বাদী মো: মোস্তফা পরিবার সহ নিরাপত্তা হীনতায় আছেন বলে গণমাধ্যম কর্মিদের কাছে জানান। তিনি প্রশাসনের নিকট হামলাকারী সকল আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবী জানান। একই সঙ্গে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ চেয়ে নিজের নিরাপত্তা চান তিনি।
মামলার এজাহার ও স্হানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই ভুক্তভোগী মোস্তফার পুত্র জাবেদ হোসেন (২০) পার্শবর্তী চর পাগলা এলাকার মো: এছাহাকের পুত্র আশিকের নিকট হইতে ১৮০০ টাকা দরদামে একটি মোবাইল ফোন কিনতে গেলে আশিক পুরো টাকা নিয়েও জাবেদকে মোবাইল ফোন হস্তান্তর করে না। এ নিয়ে জাবেদ স্হানীয় ইউপি সদস্যসহ গন্যমাণ্য লোকজনের নিকট নালিশ জানায়। এ ঘটনায় আশিক ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল পাকিয়ে ৯ জুলাই বিকেলে স্হানীয় ফজুমিয়াহাট বাজারে যাওয়ার পথে জনৈক হেকমতের দোকানের সামনে রাস্তার উপরে পথ আটকিয়ে মোস্তফার দুই পুত্র হানিফ ও জাবেদের উপর হামলা চালায়। জাবেদ ও হানিফের ডাক- চিৎকার শুনিয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আশিকে সঙ্গে থাকা হামজা, আলী, মারুফ, রশিদ, রাজু, শাকিব,বেলালসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনে মিলে হানিফ, জাবেদ, জাবায়েদা, জান্নাতকে ছোরা, লোহার রড দ্বারা কুপিয়ে- পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত আশিক জোর পূর্বক হানিফের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া অভিযুক্ত মারুফ জোর পূর্বক ভুক্তভোগী জান্নাতের গলা থেকে পঞ্চাশ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়, অফিযুক্ত হামজা ভুক্তভোগী হানিফের নিকট থেকে ২৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি টেকনো মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার অন্যতম আসামি সাকিবের ভাই রাকিব মুঠোফোন এ প্রতিবেদককে বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অল্প বয়সের যুবকের মধ্যে কথা কাটাকাটিতে মারামারি হওয়ায় দুই পক্ষের লোকজন আহত হয়। মামলার বাদী প্রভাবশালী হওয়ায় ছোট ঘটনাকে পুঁজি মামলা করে আমাদের জেল খাটিয়েছে। আশাকরি তাঁরা মামলাটি তুলে নিবে এবং এলাকায় মিলেমিশে সহবস্থান করতে সহায়তা করবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সিংহ বলেন, মামলাটি যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।