লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর মামুন হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর জুলফিকার আলি মামুন হত্যা মামলায় আদালত দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২২ নভেম্বর বেলা বারোটায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম আসামি শাহিনুর ও রাকিবের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রায়ের খবর শুনে নিহত মামুনের মা ফাতেমা সাংবাদিকদের জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পরে আমি তিরিশ বছর একমাত্র ছেলে মামুনকে নিয়ে বসবাস করেছি। আমার ছেলের হত্যাকারীদের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে এতে আমি সন্তুষ্ট তবে ফাঁসি হলে আরও খুশি হতাম। বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট হাবিবুর রহমান আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান।
মামলার এজাহার ও অন্যান্য সুত্রে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ থানার বশিকপুর ইউনিয়নের ফতেধর্মপুর গ্রামের সফি উল্ল্যার পুত্র মামুনের সাথে পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর গ্রামের চৌকিদার বাড়ী সুজা মিয়ার কন্যা শাহিনুরের প্রায় পনের বছর পূর্বে বিবাহ হয়। বিবাহের পর বিভিন্ন বেগানা পুরুষের সাথে স্ত্রী শাহিনুরের অনৈতিক সম্পর্ক এলাকায় জানাজানি হলে শহরে ভাড়া বাসায় গিয়ে উঠে তাঁরা। লক্ষ্মীপুরে এসেও স্ত্রী শাহিনুরের অনৈতিক কর্মকান্ডের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় মামুন ঢাকাসহ বিভিন্নস্হানে পান- বিড়ি বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো।
এদিকে স্বামী মামুনের অনুপস্থিতিতে শাহিনুর পরকীয়া প্রেমিক রাকিবের সাথে নিজের ১১ বছরের মেয়ে মাইসাকে বিবাহ দেয়। এবং পরস্পরের অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। গত বছরের ৯ অক্টোবর গভীর রাতে নিহত জুলফিকার আলি মামুন বিষয়টি হাতে- নাতে ধরে ফেলে। ঘটনায় শাহিনুর ও রাকিব ঘরের দেয়ালের সাথে মামুনের মাথায় ধাক্কা দিয়ে ও গলায় ওরনা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে শাহিনুর নিহত মামুনকে নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ীতে দাফন করতে গেলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে স্হানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করা লক্ষ্যে মামুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শাহিনুর বাদী হয়ে ও-ই দিনই সদর থানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে।
এদিকে ঘটনার দু’দিন পরে নিহতের মা ফাতেমা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে জুলফিকার আলি মামুন আত্মহত্যা করে নাই। শাহিনুর ও রাকিবের অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্ক মামুন দেখে ফেলায় তাঁরা আমার ছেলেকে মারধর ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। একপর্যায়ে মামুনকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসে। পরে নিহত মামুনের মা বাদী হয়ে পুত্রবধূ শাহিনুর, রাকিব ও শাহ আহমেদকে আসামী করে ২২ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে শাহিনুর ও রাকিব আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। সদর থানা উপ পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন মামলাটি তদন্ত শেষ করে ৩০ নভেম্বর শাহিনুর ও রাকিবের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ঘটনায় সম্পৃক্ততা না থাকায় শাহ আহমেদের বিরুদ্ধে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়।

 

Leave a Reply