
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝালকাঠিতে দুটি পরিবারের চলাচলের পথ দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান ওরফে মিলন (৩৮) ওই দেয়াল নির্মাণ করেন। ভুক্তভোগী পরিবার দুটির বিকল্প কোনো চলাচলের পথ না থাকায় তারা বাসায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সেই দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন।
হাদিসুর রহমান ওই দুটি পরিবারকে তাদের নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য এ কাজ করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা ৬ অক্টোবর শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন। সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। ভুক্তভোগী অঞ্জু বেগমের পক্ষে তাঁর জামাতা হাসান মাহামুদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে হাসান মাহামুদ বলেন, তাঁরা তিন ভাই ও এক বোন। ঝালকাঠি শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় তাঁর বাবা মৃত হাবিবুর রহমানের ৭ শতাংশ সম্পত্তি ছিল। ওয়ারিশ সূত্রে তিনি দেড় শতাংশ জমি পান। তবে তাঁর দুই ভাই, মা ও বোনের অংশের সাড়ে ৫ শতাংশ জমি (এসএ ১২৪ খতিয়ান) ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান কিনে নেন। হাসান তাঁর দেড় শতাংশ জমি বিক্রি করেননি। এদিকে ওই জমির পাশেই তাঁর শাশুড়ি অঞ্জু বেগম ও তাঁর বোন মঞ্জু বেগম তাঁদের বাবা মৃত রেজ্জেক আলীর কাছ থেকে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত পৌনে ২ শতাংশ সম্পত্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে সেই দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন।
হাদিসুর রহমান তাঁর ক্রয়কৃত সাড়ে ৫ শতাংশ জমিতে ‘সৈয়দ টাওয়ার’ নামে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের পেছনেই হাসান, অঞ্জু ও মঞ্জু বেগমের জমি। তাঁদের চলাচলের জন্য প্রায় চার ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা আছে। ওই রাস্তা কেউ বন্ধ করতে পারবেন না—এ কথা হাদিসুর রহমানের দলিলে উল্লেখ করা আছে। এরপরও ওই রাস্তা বুধবার মধ্যরাতে হাদিসুর তাঁর লোকজন দিয়ে দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় তাঁরা পুলিশ সুপারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতকাল রাতে সেই দেয়াল ভেঙে দিয়ে চলাচলের পথ স্বাভাবিক করে দেয়।
এ বিষয়ে অঞ্জু বেগম বলেন, ‘রাতের আঁধারে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান দেয়াল দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের কাছে সিসিটিভির ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।’
অঞ্জু বেগমের জামাতা হাসান মাহামুদ বলেন, ‘সৈয়দ হাদিসুর রহমান দলীয় প্রভাব বিস্তার করে আমার ও আমার শ্বশুরবাড়ির চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা।’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দ হাদিসুর রহমান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘আমি রেকর্ডীয় মালিদের কাছ থেকে ৭ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ করেছি। অবশিষ্ট সম্পত্তিতে কিছুদিনের জন্য রেজ্জেক আলীর মেয়েদের মানবিক কারণে থাকতে দিয়েছি। এখন তারা জমি ছাড়তে চায় না। তাই আমি আমার জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করেছি।’
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমরা চলাচলের পথ স্বাভাবিক করে দিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’