মব সৃষ্টি করে জেলেদের খাদ্য সহায়তা ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেত্রী!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
আমরা নিবন্ধিত ও কার্ডধারী জেলে। সরকারি সহায়তার তালিকায় নামও এসেছে। কিন্তু অনুদান আনতে গিয়ে দেখি নাম কেটে দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। কারণ জানতে চাইলে অসহায় মৎস্য কর্মকর্তারা বিএনপি নেত্রী ও ইউপি সদস্য নয়ন বেগমের সাথে সমন্বয় করতে বলেন। নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উল্টো ওই নেত্রীর লোকজন দ্বারা মৎস্য অফিসেই হামলার শিকার হয়েছি। দলীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বিচার চেয়ে মানববন্ধন। এসব জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলারা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করেন সদর উপজেলার চর রমনি মোহন ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক জেলে পরিবার।

সদর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ইলিশের অভয় আশ্রমে জাটকা নিধন রোধে (মার্স এপ্রিল এ দু মাসের জন্য) বিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জেলে প্রতি ৮০ কেজি করে চাউল প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার নতুন ভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হাতে নেয়। যার আওতায় জেলেপ্রতি ১৮ কেজি আটা ১৮ কেজি আলু ৮ কেজি ডাল ও ১০ কেজি তেল প্রদান করা হয়। এ জন্য সদর উপজেলার এক হাজার জন জেলের তালিকা করা হয়েছে কয়েক মাস পূর্বে। মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই শেষ তালিকা সম্পূর্ণ করা হয়। গেল ২৮মার্চ মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাঁচশত জেলেকে সহায়তা প্রদান করা হয় বাকিদের পর্যায়ক্রমে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিপত্তি বাদে চর রমণী মোহন ইউনিয়নের জেলেদের তালিকা নিয়ে ওই ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার নয়ন বেগম এই তালিকা নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করে। রবিবার সন্ধ্যায় তার দেওয়া লোকদেরকে তালিকাভুক্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের চাপ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে দুপক্ষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও মারামারি হয় এতে দুই তিন জন আহত হয়েছে।

জানতে চেয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে বারবার ফোন করে ও খুদেবার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে উপজেলা মৎস অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, মিসেস নয়ন বেগম আমাদের সাথে যেসব ভাষা ব্যবহার করেছেন তা মুখে উল্লেখ করার মতো না। বলতে গেলে মব সৃষ্টি করে ৪০জন জেলের খাদ্য সহায়তা নিয়ে গেছে। যেহেতু তিনি রাজনৈতিক দলের নেত্রী আমাদের কিছুই করার ছিল না।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নয়ন বেগম উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের দায়ী করে বলেন, তারা টাকা খেয়ে এসব তালিকা করেছেন, এখানে একই পরিবারের কয়েকজনের নাম আছে। আমি ওয়ার্ড মেম্বার আমি জানিনা কিভাবে এসব তালিকা হয়েছে। মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা যাদের থেকে টাকা খেয়েছে তাদের সাথে ওনাদের মারামারি হয়েছে।

Leave a Reply