লক্ষ্মীপুরে পৌরকর্মচারি পরিচয়ে এলাকায় নানান অপকর্ম !

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
চাকরি না করেও তিনি পৌরসভার কর্মচারি। কথিত এই পরিচয়ে এলাকায় নানান অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বেড়াচ্ছেন। বাড়ি কিংবা নতুন স্থাপনা নির্মাণে দিতে হয় তাকে টাকা। দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ ও অপরগতা প্রকাশে খেতে হয় মামলা। মেয়রের ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে এসব অপকর্ম করছেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার কালুহাজী রোডস্থ বজলুর রহমানের ছেলে নুর ইসলাম।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে পৌরসভার কালুহাজী রোডস্থ এলাকার একাধিক বাসিন্দারা জানান, এখানে নুর ইসলামের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। যাদের কাজ হচ্ছে, এলাকায় নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও জমি ক্রয়-বিক্রয় করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা। নুর ইসলামরা প্রথমে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলেই জামেলা। মামলা, হামলাসহ স্থাপনা নির্মাণ ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ে নানা উপায়ে বাঁধা দিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট  সদস্য কিংবা পরিচিতজনদের মধ্যস্ততায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সমস্যার সমাধান করে থাকেন।
শাহাজান নামে এক ভুক্তভোগী জানান, নুর ইসলাম আমার প্রতিবেশী। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চাকরিজীবি পরিচয় দিয়ে থাকেন। কয়েকমাস পূর্বে একটি জন্মসনদ সংশোধনের জন্য আট হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া সোহাগ হোসেনের থেকেও জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা ছেয়েছেন। আরও বলেন, নুর ইসলাম বয়স্ক-বিধবা, শিশুসহ সরকারি চাউলের কার্ড পাইয়ে দিবে বলে মানুষের থেকে টাকা দাবি করেন।
অভিযোগগুলো অস্বীকার করে নুর ইসলাম বলেন, মানুষের উপকার করি, তখন তারা খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না। আমি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চিঠি লেখক হিসাবে কাজ করছি। কয়েকমাস আগে এক চেয়ারম্যান আমারদের জায়গায় স্থাপনা তৈরি করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের অনুরোধে ওই জমি তাঁর কাছে বিক্রি করে টাকা নিয়েছি।
পৌরসচিব আলাউদ্দিন বলেন, নুর ইসলাম পৌরসভার নিয়মিত বা মাষ্টাররোল ভুক্ত কোন কর্মচারি নয়। সে নাগরিকদের প্রয়োজনে বিভিন্ন দরখাস্ত লিখে থাকেন। এজন্য সামান্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তাকে।

Leave a Reply