লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ ও ছাত্র লীগের ২ নেতাকে গুলি করে হত্যা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান (৩৪) ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমামসহ (২৭) দুই নেতাকে একই সাথে গুলি হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে জেলা সদরের বশিকপুর ইউনিয়নে পোদ্দার বাজার এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। জোড়া খুনের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসছে জেলাজুড়ে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এলায়। হত্যা কান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার। বুধবার সন্ধ্যায় বশিকপুর আলীয়া মাদ্রাসামাঠে জানাযা শেষে উভয় নেতাকে স্বস্ব পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।তবে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ এবং এবিষয়ে কোন মামলাও হয়নি।

যুবলীগ নেতা নোমান ঘটনাস্থলে এবং ছাত্রলীগ নেতা রাকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। রাত ১১ টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আনোয়ার হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নোমানকে মৃত অবস্থায় হাসাপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আর গুলিবিদ্ধ রাকিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বিধায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। তাদের দুইজনের মাথায় এবং মুখে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম জেহাদীর বাহিনীকে দায়ি করেছে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা নোমানের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান এবং নিহত রাকিবের বাবা রফিক উল্যা।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পবিত্র ওমরা পালন শেষে বাড়ি ফিরে পোদ্দার বাজার এলাকায় ঘুরতে বের হলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলেন নোমান ও রাকিব। নিহতদের আত্মীয় স্বজনরা সাংবাদিকদের নিকট সরাসরি কাশেম জিহাদিকে এ হত্যার জন্য দায়ী করেন। তাদের দাবি নোমানের বড় ভাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াকে জিহাদির সাম্রাজ্যে আঘাত বলে মনে করতেন জিহাদী। যে কারণে বড় ভাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াটাই নোমান এর জীবনের কাল হলো।

এবিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ্মীপুর—২ সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি, আব্দুল্লা আল নোমান ও রাকিব ইমামের খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

Leave a Reply