
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি – লক্ষ্মীপুরে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দী অসুস্থ যুবদল নেতা এ কে এম ফরিদ উদ্দিনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এ সময় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদানের দাবী জানান যুবদলের নেতারা। শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী দুপুরে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম লিটনের জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানানো হয়।
কারাবন্দী অসুস্থ ফরিদ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন হত্যা মামলায় লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম লিটন বলেন, ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রমূলক একটি হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করেন যুবদল নেতা এ কে এম ফরিদ উদ্দিন। ওই মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আড়াই মাসেরও অধিক সময় ধরে কারাগারেই বন্দী থাকা অবস্থায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ যুবদল নেতা ফরিদ গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
কারাকর্তৃপক্ষ তার অসুস্থ তায় প্রথম কারাগারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় ও তিন দিনপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়সারা ভাবে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের আহব্বায়ক কারাবন্দি ফরিদের পরিবার ও জামিন পাওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয় বলেন, যুবদল নেতা ফরিদের ব্রেইন ষ্ট্রোক হয়েছে, তার একটি হাত ও পা অবশ হয়ে গুরুত্বর অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছেন। এ অবস্থায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করা হলে, আদালত তার উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্তপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। (স্মারক নং-১৪৪৪/২৩)। কি আদালতের আদেশ তোয়াক্কা না করে তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কারা কর্তৃপক্ষ ফরিদ উদ্দিনের কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা না করায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবদল নেতারা। এ সময় চিকিৎসার অভাব যুবদল নেতা ফরিদের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি বা জীবন সংকটাপন হলে দলীয় কর্মসূচিসহ কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারীও দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবদুল আলিম হুমায়ুন, সিনিয়র যুগ্ম আহব্বায়ক সৈয়দ রাশেদুল হাসান লিঙ্কন, যুগ্ম আহব্বায়ক সৌরভ হোসেন ভুলু, মহিউদ্দিন টিটু ও কারাবন্দী ফরিদর বড় ভাই এ কে এম হাফিজ উদ্দিন দুলালসহ অনক।
প্রসঙ্গ, ২০২২ সালের ৩০ অক্টাবর রাত লক্ষ্মীপুর সদর উপজলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন বশিকপুর ইউনিয়ন মাটরসাইকেল যাগে বাড়ি যাওয়ার পথে দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন। এঘটনায় নিহত আলাউদ্দিনর ছেলে মোঃ আকাশ বাদী হয় ১৪ জনের নামে উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো
২০জনকে আসামী করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলায় দায়ের করেন। ওই মামলায় জেলা যুবদলের যুগ্ম আহায়ক এ কে এম ফরিদ উদ্দিনক আসামী করা হয়।