
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ মেঘনা নদীতে অভিযান চলাকালে জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ) চাল পাচ্ছিন প্রবাসীর পরিবার ও ব্যবসায়ীসহ অন্য পেশার লোকজন। এতে সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুর মৌজুচৌধুরীর হাট এলাকার ভাসমান জেলে সম্প্রদায়। অভিযানকালে নদীতে নামতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এঘটনায় ভাসমান জেলেদের ভিজিএফ সুবিধার অন্তর্ভূক্ত করার দাবীতে মানববন্ধন করেছেন ভাসমান এ জেলে সম্প্রদায়। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নরে মজুচৌধুরীরহাট এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। আয়োজিত এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ভাসমান জেলে সর্দার মো. সৌরভ মাঝি, মো. আবদুল গনি মাঝি, মানদক, কদ বানু, হাজেরা বিবি, মরিয়ম বিবি, মরনি বেগম, মিনোয়ারাসহ জেলে পরিবারের নারী ও পুরুষ।
জানা যায়, মজুচৌধুরীরহাট এলাকায় ২২০টি ভাসমান জেলে পরিবার মেঘনা নদীতে মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। নদীতে বছরের দুইটি অভিযানের সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন তারা। জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় অক্টোবর মাসের ২২ দিন নদীতে অভিযান চলাকালে মাত্র ৫৬ জন ভাসমান জেলেকে ১৮ কেজি হারে সরকারি চাল দেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। কিন্তু অভয়াশ্রম মৌসুম মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের অভিযানের সময় ৪০ কেজি হারে চাল দেয়ার কথা থাকলেও ওই ৫৬ জলেও সরকারি এ চাল পান না। তাছাড়া সরকারি এ খাদ্য সহায়তার আওতাভূক্তও করা হচ্ছে না তাদের। এতে নদীতে অভিযানের সময় বিভিন্ন ধারদেনা করে চলতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ ২২০টি ভাসমান জেলে পরিবারকে।
ভাসমান জেলে সর্দার মো. সৌরভ মাঝি ও কদ বানু অভিযোগ করে বলেন, সরকারি কার্ডধারি জেলেরা সরকারি চাল পায় না। সরকারি চাল পায় বাজারের ব্যবসায়ী, প্রবাসীর পরিবার ও রিকশাচালকরা। আমরা অভিযানে মাছ ধরা থেকেও বঞ্চিত, সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকেও বঞ্চিত। তারা আরো জানান, ভাসমান জেলেদের সরকারি এ খাদ্য সহায়তার আওতাভূক্ত করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহযোগিতা পাচ্ছি না তারা। বাধ্য হয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মো. সারোয়াজ্জামান এর নিকট আবেদন করতে গেলে ওই কর্মকর্তাও খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয় বলে তাদের অভিযোগ।
এব্যাপারে বক্তব্য জানতে একাধিকভার ফোন করেও চর রমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল এর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়াজ্জামান বলেন, অক্টোবর মাসের ২২ দিন অভিযানের সময় অতিরিক্ত বরাদ্ধ থাকে, তাই জেলেরা ২৫ কেজি করে পাওয়ার কথা। ১৮ কেজি করে কেন পায়, সে বিষয়ে জানা নেই। তাছাড়া মার্চ-এপ্রিল দু’মাস অভয়াশ্রম মৌসুমের সময় যারা সরকারি নিবন্ধিত, সেসব জেলেদের মধ্যে থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নির্ধারিত জেলেদের এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। মজুচৌধুরীর হাট এলাকার ভাসমান্য জেলের নিবন্ধন আবেদেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাদেরও শীঘ্রই সরকারি খাদ্য সহায়তা ভিজিএফর আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।