লক্ষ্মীপুরে “মসজিদের” জমি নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ চরমে, সংঘর্ষের আশংকা?

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজের খবর পাওয়া গেছে। স্হানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির লোকজনের দাবী মসজিদের জমি যেখানে কবরস্থান আছে সে জমিকে একটি পক্ষ থেকে সুবিধা নিয়ে ভূমি কর্মকর্তা কারসাজি করে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। অন্যপক্ষ বলছেন ভূমি কর্মকর্তা সঠিক প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে করে যেকোনো মূহুর্তে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশংকা করা যাচ্ছে?
৯ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের সাজু মাঝির দিঘির পাড় এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, ঐ এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী খুরশিদা বেগম পার্শ্ববর্তী মৃত আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার পুত্র মোজাম্মেল হোসেন সেলিমের নিকট থেকে গত ১২/১/২০২০ তারিখে পাঁচ শতাংশ জমি সাফ কবলা রেজিষ্ট্রীর মাধ্যমে খরিদ করেন। এ জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ায় খুরশিদা বেগম একপর্যায়ে এলাকার মৃত আলী আহম্মদের পুত্র লুৎফর রহমান লুতু (৬০), মৃত বজু মিয়ার পুত্র ফজল করিম (৫০), মৃত লেদু মিয়ার পুত্র দেলোয়ার হোসেন (৫৬), মৃত লেদু মিয়ার পুত্র সেলিম (৫২) কে বিবাদী করিয়া লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৬১/২০২২ মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার দায়িত্ব পান স্হানীয় দালাল বাজার ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আলী হোসেন সিরাজী। তিনি গত ৯ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এতে করে স্হানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাকির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা পক্ষপাতিত্ব করে কবরস্থানসহ মসজিদের জমিকে খুরশিদা বেগমের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা মসজিদ কমিটির পক্ষে মেনে সম্ভব হবে না। কেননা ঐ জমিতে মসজিদের শৌচাগার করার কথা রয়েছে। তিনি দাবি করে আরও বলেন, আমরা মসজিদ কমিটি ঐ নীচু জমিতে প্রায় ২০০ ট্রাক বালু ফেলে উঁচু করেছি? জমিটি সবসময়ই মসজিদের দখলে ছিলো, এখন কিভাবে এটি খুরশিদা বেগমের হয়ে গেল তা আমরা বুঝতে পারছি না, খুরশিদা বেগমদের ঐ জমিতে কখনও দখল ছিলোনা। খুরশিদা বেগমের মামলার ৩নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ওখানে আমার খরিদকৃত জমি আছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সৌদি প্রবাসি কামরুজ্জামান কাজল মুঠোফোনে জানান, আপনারা এলাকায় গিয়ে সকল পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভালো করে যাচাই-বাছাই করে নিউজ করুন। তিনি আরও বলেন, এই জমি প্রায় ৩০ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে সকল ভাইদের সমঝোতার মধ্যমে আমিন দিয়ে পরিমাপ করে ছিটাপত্র করার পরে বেলায়েত হোসেন ভোগ দখল করে আসছেন। ২০১৪ সনে শাহ আলমের ছেলে ইব্রাহিমের নিকট বেলায়েত হোসেন ১১ শতাংশ জমি বিক্রি করে। অবশিষ্ট জমি থেকে ২০১৯ সনে বেলায়েত হোসেন তার স্ত্রীর নামে ১১ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেয়। পরবর্তীতে উক্ত ১১ শতাংশের জমির ভিতরে ৯ শতাংশ জমি ব্যাক্তি মালিকানা কবর স্থান এবং ২ শতাংশ জমি মসজিদের জন্য খরিদ করে আমরা ভোগ দখল করে আসছি। এমনকি আমাদের নামে নামজারী (জমাখারিজ) ও করা আছে। বাকি দুই শতাংশ জমি এখনও রাস্তাসহ আছে। কিন্তু হঠাৎ করে অন্যপক্ষ শরীকভাই মোজাম্মেল থেকে কিছু জমি খরিদ করে অথচ কখনোই এই জমিতে মোজাম্মেল দখলে ছিলোনা। তারা এখন দাবি করে এখান দিয়ে নিয়ে আমাদের অন্য দাগে জমি দিবে। তাদের দাবির দাগ অনুযায়ী তারা অংশ নিবে। অথচ ঐ খতিয়ানে প্রায় ২০ টির বেশি দাগ আছে। ঐ সমস্ত দাগে একেক ভাই ভিন্ন ভিন্ন দাগে একক ভাবে দখলে আছে এবং কিছু বিক্রিও করেছে। এমনকি যে ভাইয়ের সাথে আমাদের মধ্যে এখন ঝামেলা সেও মসজিদ থেকে দুই প্লট পূর্বে। একক ভাবে ৮ শতাংশ জমি বিক্রি করেছে। সেখানেও কোন সমস্যা নেই, শুধু মসজিদের জমি নিয়েই তাদের সমস্যা। আইন অনুযায়ী উক্ত খতিয়ানে অংশ হারে বন্টন হলে সব দাগেই হবে। এই নিয়ে গত কিছুদিন পূর্বে থানার বৈঠকে মসজিদের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে। পরে তারা কোর্টে গিয়ে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে। অথচ স্হানীয় ভূমি কর্মকর্তা সঠিক- যাচাই না করে রিপোর্ট দেয় তারা দখলে আছে। আর এই রিপোর্ট পাওয়ার পর তারা বলছে তারা মামলার রায় পেয়েছে তাই দখল করার চেষ্টা করছে। অথচ তাদের জানা নাই, এটি তিন মাস দুই পক্ষই জন্য ঐ জমিতে সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকার একটা প্রক্রিয়া। তিন মাস পর এটির কার্যকারিতা থাকে না। তাই আমরা আইনের প্রতি সন্মান রেখে ঐ জমিতে সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও তারা আইনের তোয়াক্কা না করে দখলে আসতে চাচ্ছে। এটা যেহেতু মসজিদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি তা আইনগত ভাবে রক্ষা করার জন্য যতকিছু করার দরকার, ইনশাআল্লাহ আমরা তা করবো। মসজিদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে দেবনা, আর তারা যদি আইনগত ভাবে পায় তাহলে তা ছেড়ে দিতে আমরা আপত্তি করবো না।

পার্শ্ববর্তী ব্যাপারী বাড়ীর আঃ মান্নানের পুত্র শিক্ষার্থী মনোয়ার হোসেন, আহম্মদ উল্লাহ পাটোয়ারী বাড়ীর ফিরোজ পাটোয়ারী, তোরাব চৌকিদার বাড়ীর মোঃ তসলিম উদ্দিন, চৌকিদার বাড়ীর মোঃ হানিফ ও হোসেন আহম্মেদর পুত্র বাস চালক আরিফ হোসেন বলেন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সঠিক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, মসজিদের নামে মাত্র দুই শতাংশ জমি, যা এখন একাধিক কবরস্থানসহ আলাদাভাবে সুরক্ষিত অবস্থায় আছে।
এ বিষয়ে দালাল বাজার ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে সঠিকভাবে খোঁজ খবর নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছি। আপনার বিরুদ্ধে সেখানকার মসজিদ কমিটির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সংবাদ হয়েছে? জানতে চাইলে তিনি প্রকাশিত সে সংবাদের বিষয়ে লিখিতভাবে একটি প্রতিবাদের কপি এ প্রতিবেদককে দেন। তাতে দালাল বাজার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আলী হোসেন সিরাজী জানান, আমি সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাইতেছি যে, গত ৭ ফ্রেরুয়ারী ২০২৩ ইংরেজি তারিখ “দৈনিক সবুজ জমিন” নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে “লক্ষ্মীপুরে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা উৎকোচ নিয়ে মসজিদ ও কবরস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল-/ দাবী মসজিদ পরিচালনা কমিটির” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও বানোয়াট হওয়ায় আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

Leave a Reply