কমলনগরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

ভাস্কর মজুমদার (নিজস্ব প্রতিবেদক); প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গা ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। আগামী শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে, যা তার বাবার ঘর। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাধ্যমে শেষ হলো কমলনগরে দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন। নেচে- গেয়ে দুর্গা দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন ভক্তরা। এর মাধ্যমে এই বছরের মতো শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা। ৫ অক্টোবর বুধবার বিকেল থেকে দুর্গা দেবীর প্রতিমা বিসর্জন শুরু করেন ভক্তরা। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে আনন্দময়ীর আগমনে গত ১ অক্টোবর থেকে কমলনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরের পাঁচদিন ধরে কমলনগরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ গুলোতে পূজা- অর্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। দেবী দুর্গা এবার এসেছিলেন হাতিতে চড়ে, আর গেলেন নৌকায় চড়ে। সনাতনী ধর্মালম্বীদের মতে শ্রী শ্রী শারদীয়া দূর্গদেবীর ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পঞ্চামাদি কল্পারম্ভ ও পঞ্চমী পূজা করা হয়, ১ অক্টোবর শনিবার ষষ্ঠী পূজা, ২ অক্টোবর রবিবার সপ্তমী পূজা, ৩ অক্টোবর সোমবার মহাঅষ্টমী পূজা, ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী পূজা, ৫ অক্টোবর বুধবার শারদীয় দূর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপনান্তে দূর্গ দেবীকে বিসর্জন দেয়া হয়। এসময় সড়ক ও বিসর্জন ঘাটে ছিল পুলিশের টহল। দায়িত্বে ছিল ফায়ার সার্ভিসের টিমও। এ ছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত ছিল র‍্যাব, কোস্ট গার্ডসহ সাদা পোশাকেও ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এবার কমলনগর উপজেলায় ৩টি স্হানে দূর্গা মণ্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান বাপ্পী মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বিজয়, রামগতি- কমলনগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল আলম চৌধুরী, কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সোলাইমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ নিজাম উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারিদের সার্বিক সহযোগিতায় খুশি সনাতনী ধর্মালম্বীরা। একান্ত সাক্ষাৎকারে রামগতি- কমলনগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল অলম চৌধুরী বলেন, এবারের দূর্গা পূজায় আমরা বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। যাতে করে নির্বিঘ্নে সনাতনী হিন্দুগণের দূর্গাপুজা উৎসব সমাপ্ত করতে পারে।

Leave a Reply