
মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার ঘটনায় আলমগীর হোসেন আলম (৩০) নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর ৬নং ওয়ার্ডস্হ বাঞ্চানগর এলাকার ‘হাবিব উল্যা বেপারী বাড়ি’তে এ ঘটনা ঘটে। চাঁদা না দেয়ায় এ হামলা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী আলমের ভাই মো. কামরুল ইসলাম (৩২) একই বাড়ীর জেঠাতে ভাই মো. মনির হোসেন ও তার স্ত্রী সুরমা বেগম (২৬) এর বিরুদ্ধে এদিন রাতেই এজাহার দায়ের করেন। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর হোসেন আলম লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়েশা নুর ট্রেডার্সের মালিক। তিনি হাবিব উল্যা বেপারী বাড়ির নুর মোহাম্মদ ড্রাইভারের পুত্র। এ বিষয়ে মনির হোসেন ও তার স্ত্রী সুরমা বেগমেকে আসামি করিয়া আহত আলমের ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হইয়া থানা মামলা দায়ের করেন।
সুত্র জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৬৩নং বাঞ্চানগর মৌজার আর.এস ২০৮৮নং খতিয়ানভুক্ত ৮২৪৪ দাগে দেড় শতাংশ জমি নিয়ে নুর মোহাম্মদ ও মনির হোসেনের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। নুর মোহাম্মদরা ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে মনির হোসেন ঐ জমি ক্রয় সূত্রে মালিকানা দাবি করে। এ বিষয়ে গত ২১ জুলাই লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে আদালত কাজ বন্ধ রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার আদালত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে। এতে নুর মোহাম্মদরা ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ঐ জমিতে ঘর তুলতে গেলে মনির হোসেন ও তার স্ত্রী সুরমা বেগম জমি নিজেদের দাবী করে কাজে বাঁধা দেয়। এসময় দু’পক্ষের কথা কাটাকাটিতে সংঘর্ষ হলে এলোপাতাড়ি মারামারিতে আলমের মাথায় আঘাত লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগকারী কামরুল ইসলাম বলেন, ঐ জমি আমাদের, এ বিষয়ে ৫ বার সালিসি বৈঠক হলেও মনির হোসেন এলাকার সালিশ দরবার মানে না। নিজেদের জমি দাবী করে আদালতে গিয়ে মনির হোসেন মামলা করলে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। আদালতের রায় পেয়ে আমরা দোকানঘর নির্মাণ কাজ শুরু করি। এতে করে বৃহস্পতিবার চাঁদা চেয়ে মনির ও তার দলবল আমাদের কাজ বন্ধ করতে এসেছিলো। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমার ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।
অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের ক্রয় করা জমিতে নুর মোহাম্মদরা জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে আমরা বাধা দেই। এসময় প্রতিপক্ষ নুর মোহাম্মদ ও তার পুত্র আলমগীর হোসেন আলমরা ৭/৮ জন ভাড়াটে লোক এনে আমাদের স্বামী- স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। বর্তমান তাদের হামলার ভয়ে জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে না পেরে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আলমের মাথায় আঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, কিভাবে আলম আহত হয়েছে তা আমার জানা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন বলেন, আমাদের টাকা-পয়সা ও লোকজন নাই। প্রতিপক্ষ পয়সাওয়ালা লোক। ভূমি অফিসের তহসিলদার প্রতিপক্ষের থেকে সুবিধে নিয় তাদের পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে, উপ পরিদর্শক মজিবুর রহমানকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।