
নিজস্বপ্রতিবেদক: প্রায় অর্ধশত বছর ধরে যে জমি একপ্রতিবেশির ভোগদখল ও মালিকানায় রয়েছে, সেই জমিতে আরেক প্রতিবেশির মালিকানা আছে বলে প্যাঁচ লাগিয়ে দেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ছিলাদি গ্রামের বাসিন্দা আবদুজ্জাহের মাঝি।
ফলে গ্রামের অশিক্ষিত-আধাশিক্ষিত মানুষগুলো দ্বন্দ্ব-সংঘাত আর মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। এতে জাহের মাঝির লাভ আর লাভ। তিনি সরকারি সার্ভেয়ার পরিচয় দিয়ে জায়গা-জমির মাপঝোঁক করার পাশাপাশি গ্রাম্য শালিশ, জমির দালালি ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি তুলে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
জানা গেছে, জাহের মাঝি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি একাধিকবার ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
ভুক্তভোগী ছিলাদি গ্রামের মো. আজাদ বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিবেশি নুরুল ইসলাম মাস্টারদের ভোগদখলীয় একটি জমিতে আমাদের মালিকানা আছে বলে প্যাঁচ লাগিয়ে দিয়েছেন জাহের মাঝি। তিনি এ জমির কাগজপত্র তুলে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা কিছু টাকা তাকে দিয়েছিও। কিন্তু পরে বুঝতে পারি আসলে ওই জমিতে আমাদের মালিকানা নেই।
আরশাদ আলী জানান, জাহের মাঝি শহরকসবা, ছিলাদি ও কাঁঠালি গ্রামের অসংখ্য পরিবারকে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে দিয়েছে। তার কারণে ঝগড়া-বিবাধ, মারামারি ও মামলায় জড়িয়ে গ্রামের মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আরশাদ আলী নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
কুশাখালীর তসলিম মিয়া বলেন, জাহের মাঝির কাজই প্রতিবেশির সাথে প্রতিবেশির ঝামেলা লাগিয়ে টাকা কামানো। তিনি সরকারি সার্ভেয়ার পরিচয় দিয়ে জায়গা-জমির মাপঝোঁক করে, জমির দালালি করে, ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র তুলে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয় এবং শালিশ বাণিজ্য তো আছেই।
কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মহিন উদ্দিন বলেন, জাহের মাঝির অপকর্ম সম্পর্কে আমি জানি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে হলেও জাহের মাঝির মতো লোকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায়, জায়গা-জমি সংক্রান্ত মামলায় জড়িয়ে অসংখ্য মানুষ মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করার পাশাপাশি অর্থ অপচয় করছেন, সাথে ভোগ করছেন সীমাহীন দুর্ভোগও। অতিরিক্ত মামলার চাপে বিচার প্রক্রিয়ায়ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষক গাজী মমিন বলেন, সচেতনতাই প্রতিকার। দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও মামলা-মোকদ্দমা থেকে বাঁচতে হলে জাহের মাঝিদের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সাথে আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিকল্প নেই।