রামগতি-কমলনগরের নদী ভাঙ্গন বর্ষার আগেই বন্ধ হবে, আবদুল মান্নান

ভাস্কর মজুমদার (নিজস্ব প্রতিনিধি); লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের সংসদ সদস্য, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান বলেছেন, আমি আপনাদেরকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, এ বর্ষার আগেই রামগতি-কমলনগরের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গন বন্ধ হবে। আপনারা আমার উপর ভরসা রাখুন। ২৪ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিকল্পধারা বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর অবঃ আবদুল মান্নান এ কথাগুলো বলেন।

ইফতার মাহফিলে আবদুল মান্নান বলেন, ইতিমধ্যে নদী ভাঙন রোদে কাজ শুরু হয়েছে। এই বর্ষার আগেই ব্লক ঢেলে নদী ভাঙন বন্ধ হবে। আমি এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এই বর্ষার আগে যদি রামগতি-কমলনগরের কোন জায়গায় নদী ভাঙ্গে, তাহলে আমাকে বলবেন। আমি সে ব্যবস্থা করেছি। আমি বিভিন্ন ভাবে মন্ত্রী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলাপ করেছি। সুতারাং এ নদী ভাঙন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমাদের জীবনের প্রশ্ন। রামগতি-কমলনগরের মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা নদী ভাঙন যে কোন মূল্যে বন্ধ করবো। এবং তা এ বর্ষার আগেই করা হবে।

মেজর অবঃ আব্দুল মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামগতি- কমলনগরবাসীর প্রাণের দাবী পূরণের লক্ষ্যে এ নদী ভাঙ্গন রোধে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন। এ প্রকল্পটির কাজ হবে তিন বছরে। এটি ছিলো চার বছরের প্রকল্প। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করে এবং বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়ে মেয়াদ কমিয়ে এনেছি। সরকার কখনোই এক বছরে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় দেয়না। তিন বছরে তিন ভাগে এ অর্থ ছাড় দেয়া হবে। প্রথম বরাদ্ধে ড্রাম্পিং হয়ে ভাঙ্গন রোধ হবে। দ্বিতীয় বরাদ্ধে বেড়ী বাঁধ হয়ে যাবে এবং তৃতীয় বরাদ্ধে বেড়ীর দু পাশে ব্লক বসানোসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হবে।

মেজর মান্নান আরও বলেন, রামগতি-কমলনগরের কিছু লোক আছে। যারা এলাকার উন্নয়ন চায় না, এরা দুষ্টু লোক। ধান্দা করে বেড়ায়। তারাই দেখবেন সহজে ফেসবুকসহ সোশাল মিডিয়াতে আজে বাজে কথা লিখে গুজব ছড়ায় ।এদের কথায় কান দিবেননা। যারা এসব করে তারা এলাকার শত্রু। এদের চিহ্নিত করুন। এরা কাজটা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। তারা বিশাল এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে লেখে। এসব টাউট বাটপারদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দীন আযাদ সোহেল, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক শাহ মো: রাকিব, ছাত্রলীগ সভাপতি আকবর হোসেন সুখী, সাধারন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রামগতি-কমলনগরের নদী ভাঙ্গন রোধের কাজের অগ্রগতি বিষয়ে সাংসদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ফারুক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: কামনাশীস মজুমদার, রামগতি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আমিনুর রশীদ, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক শাহ মো: রাকিব, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকবর হোসেন সুখী, সাধারন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply