
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ইসলামিক কৃষ্টিকালচার প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের প্রচার প্রসারের উদ্দেশ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্মীপুর জেলা অফিস এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কর্মচারীদের সল্পবেতনই এমন পরিস্থিতির কারণ বলে জানন উপপরিচালক আশিকুর রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অফিসের একটি বড়ো অংশজুড়ে গড়ে উঠেছে আবাসিক। তৈরী করা হয়েছে আলাদা আলাদা কক্ষ। কক্ষগুলোকে সাজানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ফার্নিসার সামগ্রী দিয়ে। রয়েছে আলাদা রান্না ঘরও। রান্না করার জন্য আছে তাদের নিয়েগকৃত লোক। পাশের একটি কক্ষে রয়েছে বিভিন্ন ক্রিড়া সামগ্রী। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে অফিসের হল রুমেই নিয়মিত চলে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সদর উপজেলার ফিল্ড সুফারভাইজার মোস্তফা কামালের নেতৃতে একটি সিন্ডিকেট জেলা অফিসে এ আবাসিক ম্যাচ তৈরী করেছেন। তারা কয়েকজন সেখানে আবাসিক থাকেন এবং রান্নাবান্না করে খান। হলরুমে চলে নিয়মিত খেলাধুলা। এসব নিয়ে নানান সমালোচনা হচ্ছে, কিন্তু মোস্তফা ডিডি স্যারের আস্তাভাজন হওয়ায় ভয়ে কেউ কথা বলে না। ছয় সাত বছর থেকে মোস্তফার নিয়ন্ত্রনেই চলে এই অফিস। এ পর্যন্ত জেলা অফিসের তিন চারজন ডিডি এবং সকল উপজেলার ফিল্ড সুফারভাইজারদের কয়েকদফা বদলী হলেও বহাল তবিয়তে আছেন মোস্তফা!
জানতে চাইলে, ফিল্ড সুফারভাইজার মোস্তা কামাল বলেন আমাদের অফিস অনেক বড়ো এতো জায়গা কাজে লাগেনা। আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে চাকরী করি। বাহিরে থাকা খাওয়ার খরচ অনেক। তাই আমরা কয়েজন অফিসে থাকার ব্যাবস্থা করেছি। অবসর টাইমে একটু খেলাধুলা করি, এতে বেআইনী কি আছে। আমার কাজের উপর স্যারদের আস্তা থাকায় আমাকে বদলী করেন না। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে কেটে পড়েন।
লক্ষ্মীপুরের উপ-পরিচালক আশিকুর রহমান কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবসিক ভাবে থাকা ও খেলাধুলার বিষটি স্বীকার করে বলেন, মূলত তারা অল্প টাকায় চাকরি করে। বাহিরে থাকা খাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর, তাই অফিসে থাকেন। অফিসে ক্রিকেট খেলা উচিৎ না। তবে তা বিকাল ৫টার পরে হয়। বিষয়টিকে আমি ওভাবে দেখি না। এ সব কর্মকান্ড আইন ও সরকারী বিধিবিধানের পরিপন্থী কিনা জানতে ছাইলে তিনি বিষটি এড়িয়ে যান। তবে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো একটি সুনামধন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জেলা অফিসে এমন কর্মকান্ডে হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও আলেম সমাজ।