পিতার কোলে আর যেতে পারবে না ছোট্ট শিশুটি

ন্যাশনাল প্রেস ডেস্ক: হাসিখুশি পরিবারটিতে এখন বিরাজ করছে বিষা’দের ছায়া। পিতার কোলে আর যেতে পারবে না ছোট্ট শিশুটি। শিশুটি জানেও না তার পুলিশ অফিসার বাবা কখনো ফিরবে না। তিনি নিথ’র হয়ে গেছেন।পৃথিবীর নি’র্মম নিষ্ঠুরতার শি’কার হয়ে না ফেরার দেশে বাবা। সোমবার সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে টে’নে-হিঁ’চড়ে ও ধ’স্তাধ’স্তি করে একটি কক্ষে নিয়ে যান হাসপাতালের ছয় কর্মী।দ্বিতীয়তলার ওই কক্ষে নেওয়ার পর তাকে মেঝেতে উপুড় করে হাঁটু দিয়ে চে’পে ধরা হয়। ধ’স্তাধস্তির সময় তাকে মা’রধরও করা হয়। একজন কনুই দিয়ে তার ঘাড়ে আঘা’তও করেন। ধ’স্তাধ’স্তির ঠিক ৪ মিনিটের মাথায় একেবারে নিস্তেজ হয়ে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাজীপুর মহানগরীর রাজবাড়ী মাঠে তার জানাজা হয়। এরপর শহরের কেন্দ্রীয় কবরাস্থানে তাকে দা’ফন করা হয়। আনিসুল করিমের মৃ’ত্যুর ঘটনায় তার বাবা বীর মুক্তিযো’দ্ধা ফাইজুদ্দিন আহমেদ রাজধানীর আদাবর থানায় মা’মলা করেছেন। পরিবারের অ’ভিযোগ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উ’চ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে তারা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আনিসুল করিমের ভাই রেজাউল করিম জানান, আনিসুল পারিবারিক ঝা’মেলার কারণে মানসিক স’মস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তারা ভর্তির ফরম পূরণ করছিলেন। ওই সময় কাউন্টার থেকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী তাকে দোতলায় নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা জানান যে আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। তাকে দ্রুত হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃ’ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের উচ্চ র’ক্তচা’প ও হৃ’দরোগজনিত স’মস্যা থাকলেও তা তেমন প্রকট ছিল না। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পি’টুনিতেই তার মৃ’ত্যু হয়েছে। ২০১১ সালে আনিসুল করিম বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম শারমিন সুলতানা। এ দম্পতির চার বছর বয়সী সাফরান নামে একটি ছেলে রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১ বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। সর্বশেষ আনিসুল করিম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনারে দায়িত্বে ছিলেন। শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানে আলম মিয়া বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। আনিসুলের ম’রদেহের ম’য়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ৮-৯ জন লোক মিলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে এ’লোপাতাড়ি মা’রধর করছেন। কেউ মাথায়, কেউ বুকে আঘা’ত করেছেন। কাউকে আবার এএসপি আনিসুল করিমের হাত বাঁ’ধতে দেখা গেছে। তারা সবাই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার, এখানে কেউ চিকিৎসক ছিলেন না। তাই আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি স্পষ্ট হ’ত্যাকা’ণ্ড।

Leave a Reply