
ভাস্কর মজুমদার (কমলনগর প্রতিনিধি); শারদীয় উৎসব দূর্গাপূজাকলীন সময়ে সারাদেশে সনাতনী হিন্দুদের মন্দির, বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্টান ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে কমলনগরে সমাবেশ হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পযর্ন্ত উপজেলার হাজির হাট ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে স্হানীয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ গণ অনশন, গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, গত শারদীয় উৎসব দূর্গাপূজাকলীন সময়ে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন ‘অবমাননা’র অভিযোগ এনে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ অক্টোবর কুড়িগ্রাম, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজারে হামলা হয়। ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর হামলা হয় নোয়াখালীতে। এ ছাড়াও ১৪ অক্টোবর বান্দরবান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ১৫ অক্টোবর সিলেটে, ১৬ অক্টোবর ফেনী, ১৭ অক্টোবর রংপুরের পীরগঞ্জের জেলে পল্লীতে, ২১ অক্টোবর বগুড়া সদর উপজেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়। সর্বশেষ ২২ অক্টোবর হবিগঞ্জে একটি মণ্ডপে ভাঙচুর করা হয়েছে প্রতিমা। এর আগেও গত ১৩ অক্টোবর হবিগঞ্জের একটি মন্দিরে হামলা করা হয়।
বক্তারা আরো বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনের মন্দির, বাড়ীঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্টানে ভাংচুর-লুটপাট করে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া ও শারিরিক নির্যাতন করে হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে সারাদেশে সনাতনীদের ভিতরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্তৃক হিন্দুদের উপর এমন অমানবিক ও বর্বর হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন করে মানুষ হত্যার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
গণ অনশন ও বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্ঠান ঐক্য পরিষদের কমলনগর উপজেলার সভাপতি এডভোকেট মিলন মন্ডল, কমলনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নূরুল আমিন রাজু, হাজির হাট সরকারি উপকূল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব, কমলনগর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ সেন ও সহ সাধারণ সম্পাদক শুকদেব পোদ্দার। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মন্দিরের সভাপতি- সম্পাদক, সুশীল সমাজের বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মিসহ
সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।