
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা রায়লক্ষীপুর গ্রামে দুই বান্ধবীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসির আদেশ ৪ অক্টোবর রাতে কার্যকর করা হবে। ফাঁসির আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মিন্টু ওরফে কালু এবং আজিজ ওরফে আজিজুল। সোমবার দিবাগত রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে এ দু’জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য কারাগারের জল্লাদ হিসেবে মশিয়ার, কেতু, কামালসহ বেশ কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান জানান, গত শনিবার (২ অক্টোবর) দুই আসামির পরিবারের সদস্যরা তাদের সাথে শেষবারের মতো দেখা করে গেছেন। বিচারিক ও সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৮ বছর পর এ মামলার রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে। ফাঁসির রায় কার্যকরের সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তিন জল্লাদ ফাঁসি কার্যকরে অংশ নেবেন।
কারাগার সূত্রে আরও জানা যায়, আজিজুল ওরফে আজিদ ওরফে আজিজ এবং মিন্টু ওরফে কালু ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার রায়লক্ষীপুর গ্রামের দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে এ ঘটনায় ২০০৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। এ মামলায় চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই আসামি আজিজুল ও মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।
পরে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করলে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন। চলতি বছরের ২৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টেও একই রায় বহাল রাখেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের প্রাণভিক্ষার আবেদনও নাকচ হওয়ায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় কার্যকর হতে চলছে।