
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৃদ্ধ কৃষক কে পিটিয়ে জখমের মামলায়, বৃহস্প্রতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আসামী রুবেল শেখের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন আদালত। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে আদালত পাড়াতেই বাদি পক্ষকে হুমকী ধমকী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রুবেলের মা’ঝর্ণা, বড়ো ভাই রণি শেখ ও রকি শেখের বিরুদ্ধে। ভয়ে আদালত ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেয় মামলার বাদী আল আমিন। বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি বলে জানিয়েছেন মামলার বাদি।
আলামিনের মা’রেনু বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বৃদ্ধ স্বামীকে ওরা মেরে রক্তাক্ত করেছে। আমরা সমাজের কাছে কোন বিছার পাইনি! তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি, কিন্তু এখন আদালতেও আমার ছেলেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফারুক মেম্বারের স্ত্রী’ঝর্ণা ও তার ছেলে রনি ও রকি এবং রহিম আখনের মেয়ে তাছলিমা আমাদেরকে বিভিন্ন হুমকী ধমকী ও গালিগালাজ করে। আমার ছেলেকে গরু চুরির মামলায় ফাঁসানো হবে বলে ভয় দেখায়। ওদের ভয়ে রাস্তায় বের হতে পারছি না, আমরা কার কাছে যাবো।
তাছলিমার ভাই সাইফুল জানান, এই ঘটনায় আমাদের উভয় পক্ষেরই মানসন্মান ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এটা নিয়ে আর কোন বাড়াবাড়ি করতে চাইনা। আমাদের কেহ যেন কোন উচকানী মুলক কথা না বলে তা বলে দিবো। বিষয়টি সামাজিক ভাবে বসে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
জানতে চাইলে আসামী রুবেল শেখের বাবা ফারুক মেম্বার জানান, আমার ছেলে সেদিনের ঘটনায় জড়িত ছিলো না। কাদের হুমকী ধমকী দিবো ওরাকি আমাদের সাথে যায় নাকি? আমার ছেলেকে মামলা দেয়, ওদের এ সাহস হয় কি করে বুঝে আসেনা। এসময় ফারুক মেম্বারের স্ত্রী’ঝর্ণা বলেন, আমি হুমকী দিয়েছি তো কি হয়েছে? ছেলেকে তারা অন্যায় ভাবে মামলা দিয়েছে, আমরা কি কিছুই বলতে পারবো না! আদালত পাড়ায় আমাদেরকে দেখেই তারা ভয় পেয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে রনি বলেন, ওদের কোন সামাজিকতা নেই। তারা অশিক্ষিত, ছোটলোক তাই আমরা তাদের কোন গুরুত্ব দেই না।
উল্লেখ্য যে, উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউপির চরকাছিয়া গ্রামের বটতলি এলাকায় দোকানের বকেয়া ও পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় ফারুক মেম্বারের ছেলে রুবেলের নির্দেশে বাড়িতে যাওয়ার পথে বৃদ্ধ রশিদ আখন (৭০) এর উপর হামলা করে রহিম আখন ও তার ছেলে জহিরসহ কয়েক জন। এ সময় স্থানীয় লোকজন রশিদকে উদ্ধার করে রায়পুর সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর, জহির (৩০), রুবেল (৩৫) ও রহিম আখন (৫০) সহ অজ্ঞাত নামা ৫-৬ জনকে আসামী করে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়। আদালত আসামিদের প্রতি পরোয়ানা জারি করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর, আসামী রুবেল আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে তা না মঞ্জুর করে জেলে প্রেরণ করা হয় । এদিন রহিম আখনকেও গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় পুলিশ। পরে রহিমকে জামিন দেওয়া হয়। এই মামলার প্রধান আসামী জহির আখন (৩০) পালাতক রয়েছে, পুলিশ তাকে খুঁজছে ।