
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপাুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র মানির হোসেন, আজম খান ও ফারুকের নেত্রীত্বে একটি অসহায় পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় রেহানা আক্তার, সেলিম ও সাথী আক্তার নামে তিন জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চরমনসা গ্রামের ভূমিদস্যু মনির হোসেন, আজম খান ও তার পুত্র ফারুকসহ সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা একই গ্রামের পাশর্^বর্তী বাড়ির মোস্তফার পুত্র সেলিম ও তাদের পরিবারের উপর নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। আজম খান ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার হিসাবে কর্মরত রয়েছে। এ সুযোগে আজম খানের মদদপুষ্ট মনির হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সমন্বয়ে একটি সন্ত্রাসী চক্র সৃষ্টি করে সেলিমের স্ত্রী রেহানা আক্তারকে কু-প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় পরিবারকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।
ভূক্তভোগী সেলিম ১৭নং ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী। তাই অধিকাংশ সময় অনেক রাত পর্যন্ত চৌরাস্তা বাজারে অবস্থান করেন। এ সুযোগে সন্ত্রাসী মনির হোসেন রাতের বেলায় বেলাল হেসেনের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী রেহানা আক্তারকে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত করতো। প্রতিকার ছেয়ে সেলিমের স্ত্রী রেহানা আক্তার মনির হোসেনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি (মিছ ৭৮/২১) মামলা দায়ের করে। এতে ভূমিদস্যু মনির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বিগত ১৮জুলাই রেহানা আক্তারকে বেদম মারধর ও শীলতাহানীর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় রেহানা আক্তার লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে (সিআর ৭৫০/২১) মামলা দায়ের করে। এতে সন্ত্রাসী মনির হোসেন ও তার সহযোগী আজম খানগং আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ প্রবণ হয়ে উঠে।
বিগত ৮ আগস্ট সেলিম নিজ বাড়ি থেকে চৌরাস্তা বাজারের দিকে রওনা হলে সন্ত্রসী মনির, আজম খান, ফারুকসহ তাদের গ্রুপের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়া সেলিমের উপর হামলা চালায়। এ সময় সেলিমের আর্ত চিৎকারে তার স্ত্রী রেহানা আক্তার ও শ্যালিকা সাথী আক্তার এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও পিটিয়ে মারাত্নক রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যপারে ১৪’ই আগস্ট লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যাহার সদর থানার মামলা নং-৩০।
এলাকাবাসী সন্ত্রাসী মনির হোসেন, ভূমিদস্যু আজম খান ও তাদের সহযোগিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আজম খানকে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।