
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তীতে নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
২৭ জুলাই মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এ কারণে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী অথবা ভারী বর্ষণ হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বগুড়ায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের:
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদের সময় হঠাৎ বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ২৭ জুলাই মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বীরপলি গ্রামের শরিষাবাদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে মৃতরা হলেন— নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে কৃষক আবদুস সামাদ (৪৫) ও তার ছেলে স্থানীয় মুরাদপুর বান্দিরপুকুর দাখিল মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হাবিবুর রহমান হাবিব (১৩)।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবদুস সামাদ পাওয়ারটিলার দিয়ে গ্রামের শরিষাবাদ মাঠে ধানের জমি চাষ করছিলেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় এ সময় হাবিব তার বাবাকে সহযোগিতা করছিল।
মেঘলা আকাশে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। আশপাশে থাকা কৃষকরা বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সামাদ ও ছেলে হাবিবের মৃতদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়।
উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ জানান, বাবা-ছেলের মৃত্যুতে শুধু পরিবারে নয়; পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।