লক্ষ্মীপুরে করোনার ভ্যাকসিন নিতে উপচে পড়া ভীড়: ঘন্টার পর ঘন্টা ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে আসা শত শত মানুষদের উপচে পড়া ভীড় করতে দেখা গেছে। একজনের শরীরের সঙ্গে অন্যজনের শরীরে মিলিয়ে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন নানা বয়সী মানুষ। লাইনে দাঁড়ানো লোকদের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগী ও তার স্বজনরা। ভ্যাকসিন গ্রহীতার ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্হানীয় রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা। এরআগে উম্মুক্ত স্থানে বুথ থাকলেও এখন হাসপাতালের ভিতরে একটি রুমে বুথ করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। ২৫ জুলাই বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ভিতরে করোনার টিকা নিতে আসা সাধারন মানুষের এই চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, প্রথম দফায় সিনোফার্মার টিকা গ্রহনের জন্য ২৫ জুলাই টিকা নেয়ার মেসেজ পেয়েছেন প্রায় আটশত জন। এছাড়াও ২য় দফায়ও প্রায় একশত জনের মতো টিকা গ্রহন করবেন। প্রায় নয়শত জনের টিকা প্রদানে কাজ করছেন একমাত্র সিনিয়র নার্স ও একজন সহকারি। এছাড়াও যুব রেড ক্রিসেন্টের ১০জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন সহযোগী হিসেবে। রবিবার সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত টিকা দান কার্যক্রম চলবে বলে জানা যায়।

টিকা গ্রহীতারা বলছেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখানে বসার জন্য স্হান নেই, ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে একটু খাবার পানিরও ব্যবস্থা নেই এখানে। আবার স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না কেউ কেউ। এদিকে টিকা প্রদানেও চলছে ধীরগতিতে। যেনো ভোগান্তি আর ভোগান্তি?

দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স কহিনুর আক্তার বলেন, টিকা গ্রহিতা অনুযায়ী আজ (২৫ জুলাই) ৪/৫জন নার্স থাকার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু লোকবল সংকটে আমি টিকা দানে হিমশিম খাচ্ছি। বাহিরে প্রচুর মানুষ। কিভাবে সামলাবো এতো মানুষকে?
এদিকে যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন আমাদের ১০জন স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাদের কোন নাস্তার ব্যবস্থা তো দুরের কথা পানিও সরবরাহ করছে না।

লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফফার বলেন, আমাদের জনবল সংকট। কিন্তু সবার তো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের চাপ সামাল দিতে চেষ্টা করছি। মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাহলে তো জোর করে মানানো যাবে না।

 

Leave a Reply