পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে জামিনে মুক্ত রোজিনাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করা মামলায় জামিন পেয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। সেখান থেকে রোজিনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ২৩ মে রোববার বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে তার জন্য নির্দিষ্ট মাইক্রোবাসে করে স্বজনদের সঙ্গে বের হন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। এসময় রোজিনার স্বজনরা জানান, মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ রোজিনাকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ‘গোপন নথি’ সরানোর মামলায় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আদালত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি ২৩ মে রোববার জামিন পান। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

গত ২০ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শুনানি শুরু হয়। ১ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে শুনানি চলে। দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটের দিকে শুনানি শেষ হয়। তবে আদালত সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আজ ২৩ মে রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ১৮ মে মঙ্গলবার রোজিনা ইসলামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। অপরদিকে রোজিনা ইসলামের পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জামিন শুনানির জন্য ২০ মে বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ১৭ মে সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। স্বাস্থ্য সচিবের পিএস সাইফুল ইসলামের রুমে ফাইল থেকে গোপন নথি সরানোর অভিযোগে তাকে আটকে রাখা হয়। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তারা রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাংবাদিকরা সচিবালয়ের বাইরে একত্রিত হয়ে রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার প্রতিবাদ করেন।

রাত সাড়ে ৮টার পর রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের রুম থেকে বের করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে শাহবাগ থানার মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ১৮মে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়, এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের পক্ষে জামিন চাওয়া হলে আদালত ২০মে বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করে। ২০মে দুই পক্ষের শুনানি হওয়ার পরে আদালত রোজিনাকে ঐ দিন জামিন না দিয়ে ২৩ মে আদেশের দিন ধার্য করেন।

 

 

Leave a Reply